ওড়ো অবাধে হয়ে অবাধ্য
        অর্জিত হোক যা কিছু অসাধ্য...

[dropcap size=big]ঘো[/dropcap]রার বাজেট 10 হাজার টাকা হলে ঘুরে আসতে পারেন কলকাতা, আগ্রা, দিল্লী। খুব ভালভাবেই ঘুরতে পারবেন ভালবাসার সর্ববৃহৎ নিদর্শন তাজমহল সহ শাহজাহান এর শহর দিল্লী, আগ্রা, কলকাতার সকল বিখ্যাত নিদর্শনগুলো।

[divider]Day 1 [/divider]

সকাল সকাল বের হয়ে পড়ুন বেনাপোল (বেনাপোল থেকে কলকাতা কাছে হওয়ায়) বর্ডারের উদ্দেশ্যে। 40 টাকা ট্যাক্স লাগে এখন ইমিগ্রেশন ভবনে ঢুকতেই। তারপর 500 টাকা ভ্রমণ ট্যাক্স ব্যাংকে জমা দিয়ে স্লিপ নিন। দালাল না ধরাই ভাল। এমন কোন কষ্ট নেই ইমিগ্রেশনে।  শুধু শুধু দালাল ধরে অপচয় না করাই ভাল। ফর্ম পূরন করতে 10 টাকা দিতে পারেন।
দালালরা আপনাকে অনেক বলবে যে অনেক ভিড়, অনেক কষ্ট, এগুলো আপনাকে পটানোর জন্যই। নিজেই করুন। ইন্ডিয়ান কাস্টমস সিল হয়ে গেলে কাস্টমস এরিয়ার ভিতর থেকেই টাকা এক্সচেঞ্জ করে নিন। একই রেট পাবেন। তারপর সিম কিনুন (সিম ভেদে 100 রুপি থেকে 450 রুপি)। বাংলাদেশ পাওয়ার অ্যামাউন্ট রিচার্জ করে নিন, তাহলে 1.99 রুপি পার মিনিট।

অটো তে 30 রুপি দিয়ে চলে যান বনগাঁ স্টেশন। তারপর 20 রুপি দিয়ে শিয়ালদহ ট্রেনের টিকিট। কোলকাতায় শিয়ালদহে নেমে দুপুরের খাবার খেয়ে নিন (100 রুপি এর মধ্যে হয়ে যাবে )। তারপর চলে যান ফেয়ারলী প্লেস (বাসে বিবাদীবাগ. 10 রুপি এর মত ভাড়া ) তারপর হাটা দুরত্ব।

কলকাতায় ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল

পরের দিনের আগ্রা ফোর্ট যাওয়ার টিকিট কাটুন (স্লিপার ক্লাস 555/-)। আজমীর এক্সপ্রেসে যেতে পারেন রাত 11.05 এ শিয়ালদহ থেকে । তারপর হোটেলে উঠুন। শিয়ালদহ, শ্যামবাজার বা নিউমার্কেট অঞ্চলেও উঠতে পারেন। ডাবল রুম. 600 রুপির ভিতরে পেয়ে যাবেন। হোটেলে কথা বলে রাখুন চেক আউট করবেন সকালে, কিন্তু ব্যাগ বিকাল পর্যন্ত রাখবেন। সন্ধ্যায় ঘুরে আসুন রবীন্দ্র সরোবর। রাত 9 টা পর্যন্ত খোলা থাকে। মেট্রো তে যাতায়াত করলে খরচ কম। নিউমার্কেট থেকে মেট্রো স্টেশন বেশী দূরে নয়। 10 রূপি ভাড়া রবীন্দ্র সরোবর স্টেশন। ঘোরা শেষে হোটেলে ফিরে আসুন। নিউমার্কেটের সামনেই খাবার হোটেল (100-150 রুপি) পেয়ে যাবেন।

[divider]Day 2 [/divider]

কলকাতার দর্শনীয় স্থান গুলোর ভিতর ভিক্টোরিয়া, সায়েন্স সিটি, হাওড়া ব্রিজ, ইকো পার্ক, মাদার ওয়াক্স মিউজিয়াম, দক্ষিণেশ্বর মন্দির, বেলুড় মঠ, বিরলা মন্দির।
আপনার পছন্দসই 4-5 টা জায়গা ঘুরতে পারবেন। বাস বা মেট্রো তে 200 রুপিতে ভালভাবেই হয়ে যাবে। টিকিটের জন্য আরও. 100 বরাদ্দ রাখুন মাদার ওয়াক্সে 250/- । বাকি গুলোতে 20-40 এর । সকালেই শ্যামবাজারের লঞ্চঘাট থেকে লঞ্চে উঠুন হাওড়া পর্যন্ত টিকিট কাটুন। গঙ্গা নদীতে ঘোরা এববং হাওড়া ব্রিজের নিচে দিয়ে যাওয়া এবং ঘাটে নামার পরে ব্রিজ হেটেও ঘুরতে পারেন। পাশেই মিলেনিয়াম পার্ক। ঘুরতে পারেন পার্কে।
দুপুরের খাবার 100-150 রুপি। পার্ক থেকে আসুন সায়েন্স সিটিতে বাসে। সায়েন্স সিটি থেকে ভিক্টোরিয়া। ময়দান গড়ের মাঠও ঘুরে নিন সাথে। রাতে খেয়ে (100 রুপি ) ট্রেনে ওঠুন আজমীর এক্সপ্রেসে

হাওড়া ব্রিজ

[divider]Day 3[/divider]

ট্রেনেই সকালের ব্রেকফাস্ট (40/-)। দুপুরে চিকেন কারি অর্ডার দিতে পারেন (150/- )। অন্য খাবার গুলা আমার কাছে টেস্টি এবং মানসম্পন্ন মনে হয় নি। সন্ধ্যা 6.30-7.00 এ পৌছাবেন। ট্রেন লেট থাকলে আরও একটু দেরি হতে পারে।

আগ্রা ফোর্ট স্টেশন থেকে বের হয়েই হোটেল পাবেন। তবে বালিগঞ্জে হোটেল তুলনামূলক সস্তা। স্টেশন থেকে 30 রুপি অটো ভাড়া (রিজার্ভ) । 600 রুপিতে ডাবল রুম হয়ে যাবে।  একটু খুঁজে দেখলে 500/- তেও পাবেন। হোটেলে ওঠার আগে খেয়ে নিলেই ভাল। মিডিয়াম হোটেলে খেতে লাগবে 150/-।

ভোরের তাজমহল

[divider]Day 4[/divider]

সকালে উঠেই চলে যান তাজমহলে। (শুক্রবার সাপ্তাহিক বন্ধ) সার্ক কান্ট্রির জন্য 530/- রুপি টিকিট। সাথে মিনারেল ওয়াটার এবং সু কভার দিবে ফ্রি। ফরেনারদের লাইন আলাদা। ওইলাইন দিয়ে ঢুকে যান। ভিতরে গিয়ে যদি প্রয়োজন মনে করেন তাহলে গাইড নিতে পারেন। গাইড সবকিছু ভালভাবে বিশ্লেষণ করবে। গাইড 250/- রুপির মত নিতে পারে। লোক বেশী হলে একটু বেশী লাগবে। তবে বার্গেনিং করুন। আর বাইরে থেকে গাইড নিলে বেশী লাগবে। তাজমহলের সৌন্দর্য উপভোগ করুণ মন মত। তারপর যেতে পারেন আগ্রা ফোর্ট। তাজমহলের টিকিট এবং পাসপোর্ট দেখালে ফরেনারদের জন্য মাত্র 30 রুপি। ভালভাবে ঘুরে নিন আগ্রার এই কেল্লা। এই দুইটাই মেইন এট্রাকশন। ফোর্টের সামনেই মুঘল গার্ডেন। ঘুরে দেখতে পারেন।দুপুরের খাবার খেয়ে নিন. (200/- )রুপি। আপনার যদি তাজমহল এবং আগ্রা ফোর্ট দুপুরের ভিতর ঘোরা শেষ হয় তাহলে বেবী তাজমহল বা ফতেপুর সিকরী ঘুরতে পারেন। বেবী তাজ তাজমহলের আগে তৈরি। সারাদিনের এই ঘোরায় মাথাপিছু 120 -150 রুপি লাগতে পারে। শুধু তাজ আর ফোর্ট ঘুরলে 100 এর কম লাগবে। সন্ধ্যায় হোটেল থেকে ব্যাগ নিয়ে চলে আসুন বাসস্ট্যান্ডে। ননএসি বাসে 300/- দিল্লী। বাসস্ট্যান্ড থেকে অটো তে চলে যান নিউ দিল্লী রেল স্টেশনে

150/- টাকা নিবে অটো রিজার্ভ। 3-4 জন যেতে পারবেন। স্টেশনের পাশেই অনেক হোটেল আছে।  600/- রুপিতেই ভাল মানের ডাবল রুম পেয়ে যাবেন। রাতের খাবার (150 -200/-) রুপি। ভাত পার প্লেট 30 /- নূন্যতম । নিউ দিল্লী স্টেশনের দোতলায় আছে ফরেন ট্রাভেলার্স হেল্প। ওইখানে থেকেই টিকিট কাটুন পরদিন বিকাল বা রাতের 630/-।

[divider]Day 5[/divider]

সকালের নাস্তা করে নিন 40 /- রুপি। পরদিন সকালে মেট্রো স্টেশন থেকে চলে যান লোটাস টেম্পেল (কালকাজি মন্দির মেট্রো স্টেশন)। এটা কোন নির্দিষ্ট ধর্মীয় মন্দির নয়। যেকোন ধর্মীয় উপাসনা এখানে করা যায়। লোটাস টেম্পেল ঘুরে কুতুব মিনার (টিকিট 30/- বিদেশী 500/- ) ঘুরুন। সর্বাধিক উচুঁ মিনার।

লোটাস টেম্পেল

ইন্ডিয়া গেট

তবে এখানে আই কার্ড চেক করে না। তারপর ইন্ডিয়া গেট। এখানে কোন টিকিট নেই। ইন্ডিয়া গেট ইন্ডিয়ান শহীদদের উদ্দেশ্যে নির্মিত। দুপুরের খাবার খেয়ে নিন 200/-। তারপর বিকালে যেতে পারেন লাল কেল্লা। (টিকিট 35/-, বিদেশী 500/-)। আই কার্ড চেকিং নেই। এখানে লাইট শো দেখতে পারেন। পাশেই চাঁদনী চক। কিনতে পারেন পছন্দের জিনিস। তবে একটু সাবধানে। তারপর আবারও হোটেলে চলে আসুন। সারাদিনের এই ঘোরার জন্য খরচ হতে পারে 120 রুপি। রাতে ঘুরতে পারেন দিল্লী শহরে। রাতের খাবার 150/-।

[divider]Day 6[/divider]

সকালে যেতে পারেন বিরলা মন্দির। সি.এন.জি তে 50 রুপি। সেখান থেকে রাষ্ট্রপতি ভবন। হনুমান মন্দির। রাজঘাট। রাজঘাটে মাহাত্মা গান্ধীর সমাধি বা আপনার পছন্দসই অন্য কোন প্লেসেও ঘুরতে পারেন। বিকালের ভিতর ঘোরা শেষ হয়ে যাবে। ঘুরতে 250 রুপি লাগতে পারে প্রতিজনের।

রাতের দিল্লি শহর

তারপর কলকাতার ট্রেনে উঠে পড়ুন। রাতের খাবার 150/-।

[divider]Day 7[/divider]

পরদিন দুপুরে 150/- রুপি। সন্ধ্যায় পৌছাবেন হাওড়ায়। বাসে চলে আসুন নিউ মার্কেট অঞ্চলে। রাতে খাবার 100/-। হোটেলে থাকুন 600 রুপিতেই। সকালে নাস্তা 30/- রুপি। সকালে বাসে শিয়ালদহ 10/- রুপি । শিয়ালদহ বনগাঁও 20 রুপি ট্রেন ভাড়া। স্টেশন থেকে বর্ডার 30 রুপি। ইমিগ্রেশন কমপ্লিট করে চলে আসুন নিজের প্রানপ্রিয় দেশে।

  • হোটেলের রুম ভাড়া দুইজনের ডাবল রুম হিসাবে দেওয়া।
  • এছাড়াও রাস্তায় পানি এবং অন্য খাবার এসবের খরচ ধরুন 500 রুপি।

কুতুব মিনার আর লাল কেল্লার টিকেট ইন্ডিয়ান হিসেবে ধরা। দরদাম যত করবেন খরচ ততই কমবে। দুই একটা তথ্য সামান্য হেরফের হতে পারে।

এরকম আরো ট্র্যাভেলিং টিপস পেতে ফলো করুন আমাদের ফেসবুক পেজ এ। থাকুন অবাধ এর সাথেই…

হ্যাপি ট্রাভেলিং।