ওড়ো অবাধে হয়ে অবাধ্য
        অর্জিত হোক যা কিছু অসাধ্য...

হিমাচল প্রদেশে হিমালয়ের কোলঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে মানালি। মানালি যাওয়া-আসার জন্য যে পথ আছে, সেটাকে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু মোটরওয়ে। উঁচু পাহাড়ের পথের পাশে কখনো বরফঢাকা প্রকৃতি, কখনো আবার ঝরনা। দূরে হিমালয়ের হাতছানি তো আছেই।

হিমালয়কে বলা হয় পৃথিবীর তৃতীয় মেরু। আর সেই উপত্যকার বরফ রাজ্য হলো মানালি। প্রকৃতি তার সব সুন্দর যেন এখানে ঢেলে দিয়েছে পাহাড়ের কোণে কোণে। আর পাহাড়ের গায়ে বরফের শুভ্র আল্পনা, সঙ্গে মেঘের আনাগোনা আপনাকে প্রতিমুহূর্তে মুগ্ধ করবে।

শিমলা বেড়াতে এসে বরফ রাজ্য মানালি দেখব না, তা কি করে হয়। বলা হয়ে থাকে এরা নাকি মামা-ভাগ্নে। মামার সঙ্গে তো পরিচিত হলেন। তাহলে যাওয়া যাক ভাগনেকে জানতে। শিমলা থেকে মানালি যাওয়ার রাস্তা সবটাই পাহাড়ের বুক চিরে বানানো। তাই যেতে যেতে কত রকমের পাহাড় যে আপনার দেখা হয়ে যাবে তা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। একবার মনে হবে পাহাড়ের একদম নিচে নেমে এসেছেন তো আবার মনে হবে পাহাড়ের চূড়ায় উঠে গিয়েছেন।

পাহাড়ের পাথর কেটে রাস্তা বানানো হয়েছে বলে মাথার ঠিক ওপরেই টুকরো টুকরো বিশাল পাথরের খণ্ড। মনে হবে এই বুঝি ঝম করে পাথর ছুটে পড়ল গায়ের ওপর।

পথে কোথাও কোথাও পেয়েও যাবেন খসে পড়া বিশাল পথরের খণ্ড। পাহাড় বেয়ে চলতে চলতে হঠাৎ ঢুকে পড়বেন পাহাড়ের ভেতরে। নিকশ কালো অন্ধকার, একটু পরপর বসানো আছে বাতি, তবু যেন অন্ধকার কাটছে না। কিছুক্ষণের মধ্যেই বুঝে যাবেন এখন চলছেন পাহাড় কাটা টানেলের ভেতর দিয়ে। ভয় আর অ্যাডভেঞ্চারের এ এক অন্যরকম অনুভূতি। দীর্ঘ পাঁচ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে এভাবেই। তারপর মিলবে আবার দিনের আলো।

মনে হবে এ যেন একই দিনের ভেতর আরেকটি নতুন দিন। মানালির আগেই রয়েছে কুল্লু শহর। কিছুক্ষণ সময় করে ঘুরে নিতে পারেন সেখানেও। আর যারা বিমানে চড়ে মানালি যেতে চান তাদের অবশ্যই কুল্লু বিমানবন্দরে নামতে হবে। গাড়িতে শিমলা থেকে মানালি পৌঁছাতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে যাবে। সময় লাগবে আট ঘণ্টার ওপর। তাই হোটেলে উঠে বিশ্রাম নিয়ে নিন। আর হোটেলের বেলকনিতে বসেই উপভোগ করতে থাকুন সন্ধ্যাটা। পাহাড় বেয়ে নেমে আসা বরফ গলা ঠান্ডা পানি ঝম ঝম শব্দে বয়ে চলেছে যে নদীর বুকে তার নাম ‘বিস’। এটি আপনি দেখতে পারবেন বেলকনিতে বসেও।

মানালিতে যেসব স্থানে বেড়াবেন
মানালিতে আসলে আলাদা করে বেড়ানোর জায়গা খোঁজার প্রয়োজন হয় না। হোটেলে আশপাশে সব জায়গা প্রায় একই রকম। সবখানেই আকাশছোঁয়া পাহাড়, আপেলবাগান, বরফের শুভ্রতা আর মেঘ। তবে সবাই এক জায়গায় সমবেত হতে একটু ভিন্নভাবে উপভোগ করতে কিছু স্থান তো বেছে নিতেই হয় আলাদা করে। সোলাং ভ্যালি, রোথাংপাস, হাদিমবা টেম্পল, মনিকারন তার মধ্যে অন্যতম। বরফের দেশে এসে স্কেটিং তো করতেই হবে। আর তার জন্য আপনাকে যেতে হবে সোলং ভ্যালি। এখানে আপনি নির্ধারিত মূল্যে ভাড়ায় পেয়ে যাবেন স্কেটিং-এর সবকিছু। নিয়ে নিন আর গড়াগড়ি দিতে থাকুন বরফের মাঝে। এ এক অন্যরকম অনুভূতি। আবার আপনি চাইলে পাখির ডানায় করে ভেসে বেড়াতে পারেন আকাশে। বলছি প্যারাগ্লাইডিংয়ের কথা।

আপনাকে সহায়তা করতে রয়েছেন অভিজ্ঞ প্যারাগ্লাইডার। তাঁর সঙ্গে প্যারাসুটে বসে হাওয়ায় উড়তে উড়তে উপভোগ করুন পাহাড়, গাছপালা, ঘরবাড়ি সবকিছুর ওপর জমে থাকা বরফের শুভ্রতা, তার গায়ে রোদের আলোর ঝিকিমিকি। তবে প্যারাগ্লাইডিংয়ের জন্য আপনাকে উঠতে হবে অনেক ওপরে, তার জন্য রয়েছে রুফওয়ে। এটি আপনাকে নিয়ে যাবে প্রায় তিন কিলোমিটার ওপরে। ওপরে উঠেই আত্মহারা হলে চলবে না। পাহাড়ের ওপরে উচ্চতার কারণে অক্সিজেনের মাত্রা কম থাকায় শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে তাড়াতাড়ি। তাই সবকিছু করতে হবে সময় নিয়ে ধীরে ধীরে। সোলং ভ্যালিতে ছোট বাচ্চা থেকে শুরু সব বয়সীদের আনন্দ উপভোগের জন্য রয়েছে অনেক ধরনের রাইড। তার জন্য আপনাকে নির্ধারিত মূল্যের টিকেট নিয়ে নিতে হবে। সোলাং ভ্যালি দেখা শেষ করে চলে যান রোথাংপাস। মানালি থেকে রোথাংপাস যেতে সময় লাগবে দেড় ঘণ্টার বেশি, রাস্তাও বেশ দুর্গম। রওনা দেওয়ার আগে ভালোভাবে জেনে নিন রাস্তার অবস্থা। না হয় আটকা পরতে পারেন রাস্তার ফাঁদে। রোথাংপাস পৌঁছে উপভোগ করুন বরফের সমুদ্র। কয়েক কিলোমিটার দূরেই চীনের সীমানা হওয়ায় আর সামনে আগানো মানা, তাই রুথাংপাসেই থেমে যেতে হবে আপনাকে।

মনে রাখবেন আপনি এখন পৃথিবীর ছাদে অবস্থান করছেন। অক্সিজেনের স্বল্পতার কারণে এখানে দ্রুত শরীর অসুস্থ হয়ে পরার সম্ভাবনা থাকে। আর হীমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা হওয়ায় আপনাকে অবশ্যই শীত নিরোধক পোশাক ভালোভাবে চেপে নিতে হবে, প্রয়োজনে ভাড়া করেও নিতে পারেন মানালি থেকে। আর দিনের আলো থাকতেই ফিরে আসুন রোথাংপাস থেকে। পরদিন সকালের সকালের খাবার শেষ করে প্রথমেই দেখে নিন হাদিমবা টেম্পল। মূল শহেরের কাছেই অবস্থিত এটি। তাই দ্রুত হাদিমবা টেম্পল দেখে চলে যান মানিকারন। সেখানে রয়েছে গরম পানির ঝরনা। পাহাড়ের ভেতর থেকে সব সময় ঝরে পড়ছে গরম পানি। যেখানে ঠান্ডায় হার জমে আসে সেখানে এই গরম পানির ঝরনায় গোসল করা এক অন্যরকম আনন্দের ব্যাপার। আর এই বিশেষ কারণেই এটি ভারতের তীর্থ যাত্রীদের কাছে খুবই পবিত্র। এখানেও রয়েছে একটি মন্দির। মানালিতে কেনাকাটার জন্য মূল শহরের কেন্দ্রে মালরুডই উত্তম।

যেভাবে যাবেন : ঢাকা-সিমলা-মানালি
ঢাকা থেকে ট্রেনের টিকেট নিয়ে উঠে পড়ুন মৈত্রী এক্সপ্রেসে। প্রথমেই চলে যান কলকাতা। দুই দেশের অপরূপ শোভা দেখতে দেখতে আপনি ভুলেই যাবেন নিজের দেশকে কখন পেছনে ফেলে চলে এসেছেন আরেক দেশে। কলকাতা পৌঁছে চাইলেই একটা দিন দেখে নিতে পারেন সেই ব্যস্ত নগরীকে। তারপর শিয়ালদহ থেকে কেটে নিন কালকা মেলের টিকেট, যা আপনাকে কলকাতা থেকে ৩২ ঘণ্টার আনন্দময় ভ্রমণের মধ্য দিয়ে সরাসরি পৌঁছে দেবে চণ্ডিগড়ের উত্তরে পাহাড়ি জনপদে অবস্থিত কালকা রেলস্টেশনে। ট্রেন থেকে নামলেই আপনার চোখ জুড়িয়ে যাবে স্টেশনের ঠিক বাইরে থেকে শুরু হওয়া আকাশের মেঘ ফুঁড়ে ওঠা পাহাড়গুলো দেখে। ঘণ্টা দুই সময় নিয়ে এই কালকা স্টেশনের আশপাশের ছবি তুলে পরে দুপুরের খাবার সেরে নিন। কালকা রেলস্টেশন থেকে অল্প দূরেই সিমলা মানালি যাওয়ার সব বাসস্ট্যান্ড।

তবে কালকা রেলস্টেশনের ঠিক পাশেই রয়েছে পাহাড়ি পথের দুরন্ত গাড়ি জিপ কিংবা টেম্পো ট্র্যাভেলার। এগুলো করে আপনি অনায়াসে কালকা থেকে পাঁচ ঘণ্টায় সিমলা কিংবা ১০ ঘণ্টায় চলে যেতে পারেন মানালি।

কিন্তু আপনার ভ্রমণের মাধ্যম ট্রেন হলে, কালকা স্টেশন থেকে কেটে নিন সিমলা যাওয়ার সবচেয়ে আকর্ষণীয় মাধ্যম টয় ট্রেনের টিকেট। আর এই টয় ট্রেনে যেতে যেতে আপনার হৃদয় জুড়িয়ে যাবে পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখে। সঙ্গে বাড়তি পাওয়া হিসেবে পেয়ে যাবেন পাহাড় কেটে তৈরি করা ছোট-বড় অনেক টানেল। পাহাড়ের সৌন্দর্য আর অন্ধকার এসব টানেলের রোমাঞ্চে আপনার হাত-পা শীতল হয়ে আসবে। ভাবতে পারেন, মাত্র পাঁচ ঘণ্টায় আপনি পেরিয়ে যাবেন ১০৩টি টানেল!

কোথায় কোথায় পাবেন হোটেল
মানালি শহরটি শিমলার মতো এক জায়গায় আঁটসাঁট নয়। একটু ছড়ানো হওয়ায় মূল রাস্তার পাশেই গড়ে উঠেছে অনেক হোটেল। পাঁচতারকা থেকে শুরু করে সাধসাধ্যের মধ্যে সব ধরনের হোটেল পাবেন এখানে। মূল শহরের বেশ আগে থেকেই শুরু হওয়া হোটেলগুলো শহর পেরিয়ে চলে গেছে সোলং ভ্যালি পর্যন্ত। হোটেল সিতারা ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল মাউনটেন ফেস, সান পার্ক রিসোর্ট, হোটেল স্নো পার্ক, সোলং স্কি রিসোর্ট, হোটেল আইসল্যান্ডসহ বহু হোটেল রয়েছে এখানে। এগুলোতে আপনার প্রতিদিন খরচ হবে দেড় হাজার থেকে চার হাজার রুপির মধ্যে।

কোন সময়ে যাবেন

বরফ দেখবেন? নাকি সবুজ পাইন বন?? নাকি মেঘ-পাহাড়ের ঠুকাঠুকি? হিমাচল যাওয়ার জন্য কোন সময় উপযুক্ত, এটার মনে হয় কোন উত্তর নাই। শিমলা মানালি হচ্ছে মেকাপ ছাড়াই সুন্দরী, তাই যখনই দেখবেন,মুগ্ধ হবেন। একটা কথা মনে রাখবেন, climate change এর প্রভাব থেকে হিমাচলও রেহাই পায়নি। তাই বাংলাদেশের মতো ওখানকার আবহাওয়াও উদ্ভট আচরন করতেই পারে। ক্যালেন্ডার মেনে তুষার, বরফ, বৃষ্টি হবে না। তারপরও আবহাওয়ার ভিন্নতাকে কয়েকটা সময়ে ভাগ করা যায়-

১. যদি আপনি বরফ দেখতে চান (snowfall বা তুষারপাত কিন্তু পাবেন না, জমে থাকা বরফ পাবেন), এবং সেই সাথে Snow Activities চান, তাহলে এপ্রিল থেকে জুনের মাঝে ঘুরে আসুন। এই সময়টাতেই সব থেকে বেশি টুরিস্ট ভিড় করে মানালি তে, স্বাভাবিক ভাবেই তখন সব কিছুর দাম থাকে চড়া। লাদাখ যাওয়ার জন্যেও এইটা সেরা সময়।

২. যদি চান snow fall দেখবেন, তাহলে ডিসেম্বর- জানুয়ারিতে যান। তবে আপনি যে ৪-৫ দিন থাকবেন, সেই সময়েই যে তুষারপাত হবে, এমন নিশ্চয়তা কিন্তু কেউ দিতে পারেনা।

৩. সস্তায় ঘুরে আসতে চাইলে যান জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে। তবে, ভারী তুষারপাতের কারনে সাইটসিয়িং মাটি সবার সম্ভাবনা থাকে। হোটেলের রুমে বসে তুষারপাত দেখা ছাড়া কিছু করার থাকবে না। তবে সেটাও কিন্তু মন্দ না। কারন আমার কাছে মনে হয়েছে শিমলা মানালিতে যেয়ে আলাদা কোন সাইটসিয়িং এর দরকার হয় না, প্রতিটা জায়গায় এক একটা সাইট।

৪. মেঘ-পাহাড়ের ঠুকাঠুকি- এইটা পেয়েছি বর্ষায় বান্দরবন গিয়ে, দার্জিলিং গিয়েও। শিমলা অবস্থান তার থেকেও অনেক উঁচুতে, কিন্তু তাও এমন দৃশ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছি। কারন সময় টা বর্ষার ছিল না। হিমাচলে জুনের শেষভাগ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বর্ষা। এসময় সাধারণত টুরিস্ট খুব কম যায়। কারন বৃস্টির জন্যে পাহাড়ি রাস্তা বিপদজনক হয়ে থাকে। সব রকম snow activities বন্ধ থাকে।

৫. সবুজ পাইন বন, ক্রিস্টমাস ট্রীর বাহার দেখুন সেপ্টেম্বর এর মাঝ থেকে নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত। এই সময় আবহাওয়া পরিস্কার থাকে। বরফ না থাকায় পাহাড়গুলোর আসল রূপ দেখতে পাবেন। এই সময়েও মোটামুটি কম খরচেই ঘুরে আসতে পারবেন।

৬. নভেম্বর-ডিসেম্বরও পিক সিজন। নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ঠাণ্ডা টা সহনীয়, তাই টুরিস্ট চাপ থাকে।

৭. বরফ পড়া শুরু হলেই রোথাং পাস যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেয়। মার্চ-এপ্রিলে আবার খুলে দেয়।

ঠিক করে ফেলুন, কি দেখতে চান। সেই সময় মিলিয়েই চলে যান হিমাচল দর্শনে।

ভ্রমণ ব্যয়
একা অথবা দুজন মিলে মানালি বেড়াতে গেলে ঢাকা থেকে রওনা করে সব দেখে ঢাকায় ফিরে আসা পর্যন্ত আপনার ব্যয় হবে জনপ্রতি ৩০ হাজার বাংলাদেশি টাকা। কিন্তু দলটা একটু বড় করে নিয়ে আট থেকে ১০ হলেই ভ্রমণ ব্যয় নেমে আসবে অর্ধেকে। মাথাপিছু মাত্র ১৫ থেকে ১৮ হাজারের মধ্যেই আপনি সম্পন্ন করতে পারবেন আপনার ভ্রমণ।

টিকেট ও হোটেল বুকিং
ঢাকা থেকে কলকাতা মৈত্রী এক্সপেসে প্রথম শ্রেণিতে খরচ হবে চৌদ্দশত টাকা। কলকাতা থেকে কালকা ‘কালকা মেল’ প্রথম শ্রেণিতে থ্রি-টার এসির টিকেট মিলবে ১৮০০ টাকার মধ্যে। আর টয় ট্রেনের টিকেট মিলবে ৩০০ টাকায়। প্রতিটি টিকেট আপনি কাটতে পারবেন স্টেশনের টিকেট কাউন্টার থেকে। তবে ভ্রমণকারীরা সাধারণত ভ্রমণের সময় কোনো ধরনের বিপাকে পড়তে চান না। তাই ভ্রমণ সিজনগুলোতে যখন টিকেটস্বল্পতা সৃষ্টি হয়, তখন আগে থেকে টিকেট নিশ্চিত করে রওনা হওয়াই উত্তম। সে ক্ষেত্রে আপনি আপনার নিজস্ব ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ইন্ডিয়ান রেলওয়ের ওয়েবসাইট থেকেও টিকেট কেটে নিতে পারেন। অথবা কোনো ভ্রমণ গাইডের সহযোগিতায় টিকেট কেটে রাখতে পারেন। কলকাতা, সিমলা ও মানালিতে যেসব হোটেল রয়েছে, সেগুলোতে থাকতে প্রতিদিন আপনাকে খরচ করতে হবে ১০০০ থেকে ৩০০০ টাকার মধ্যে। তবে আরো অধিক মূল্যেরও অনেক হোটেল রয়েছে।

সাবধানতা

শিমলা থেকে মানালি যাওয়ার রাস্তা সম্পূর্ণটা পাহাড়িপথ এবং পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগে বিধায় পথে মাঝে মাঝে যাত্রাবিরতি দিন। প্রচণ্ড শীতে শরীর জমে আসার দরুন অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই পর্যাপ্ত শীতের কাপড় সঙ্গে রাখুন। আপেল বাগান দেখে আত্মহারা হয়ে আপেল ছিঁড়ে আনন্দ উপভোগ থেকে বিরত থাকুন। সোলাং ভ্যালিতে গিয়ে প্যারাগ্লাইডিং করা বা স্কেটিং করার সময় সতর্ক থাকুন এবং অভিজ্ঞ গাইডদের সহায়তা নিন। নয়তো দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে। রুথাংপাসে অবশ্যই দৌড়ঝাঁপ করা যাবে না। এতে শ্বাসকষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অক্সিজেনস্বল্পতা এড়াতে ধীরে ধীরে থেমে থেমে বেড়াবেন।
‘বিস’ পাহাড়ি নদী হওয়ায় এর স্রোত এত বেশি যে, কেউ একবার পড়লে আর খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। তাই ভয়ংকর এই নদীর পানি ছুঁয়ে দেখা বা নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে এর কাছে যাওয়া সরকারিভাবেই নিষেধ রয়েছে এখানে। এ বিষয়ে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করুন।

প্রিয় পাঠক, এমন আরো ট্রাভিলিং টিপস পেতে থাকুন অবাধের সাথেই। আর ফলো করুন আমাদের ফেসবুক পেজে

হ্যাপি ট্রাভেলিং!

 

কার্টিসিঃ bdtimes365