ওড়ো অবাধে হয়ে অবাধ্য
        অর্জিত হোক যা কিছু অসাধ্য...

বেজেললেস ডিজাইন, মেটাল ইউনিবডি ডিজাইন, এজ টু এজ ডিসপ্লে, কার্ভ গ্লাস এইসব টার্ম গুলোর সাথে আমরা স্মার্টফোন প্রেমীরা সবাই কম বেশি পরিচিত। এসব টার্মগুলো অনেকের কাছে গিমিক মনে হলেও স্মার্টফোন ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক বড় আলোচনার বিষয় কেননা এইসব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়গুলো একটা স্মার্টফোন কোম্পানীর এডভার্টাইজিং এর জন্যে কি ফিচার। আর এই স্মার্টফোন ইন্ডাস্ট্রি যে প্রতিনিয়ত কত বড় রূপ ধারণ করছে তা এসব কোম্পানীর সেলিং ইউনিট দেখলেই বুঝা  যায়। স্মার্টফোন সেলস সম্বন্ধীয় নিউজ পোর্টাল ” স্টাটিস্টিয়া” এর মতে প্রতি বছর ১.৫ বিলিয়ন স্মার্টফোন ইউনিট সেল হয় । আর ১.২৭ বিলিয়ন ইউনিট শিফট হয় এন্ড্রোয়েড অপারেটিং সিস্টেম ভিত্তি স্মার্টফোন গুলো।  আর এত বিলিয়ন ইউনিট সেল করার জন্যে প্রতি বছর নির্মাতারা তাদের স্মার্টফোন ডিজাইন এ ভিন্নতা আনার চেষ্টা করে। আর সেই সুন্দর ইউনিক  ডিজাইনের ভিত্তিতে, সব থেকে সুন্দর কিছু স্মার্টফোন গুলোর লিস্ট নিচে দেওয়া হলঃ

      

১০ ।  অরিজিনাল আইফোন  : আইফোন শুধু একটি শব্দই যথেষ্ট মানুষের কৌতূহলের। এর জনপ্রিয়তা কতটা তা অন্তত তাদের প্রতিবছরের প্রফিট মার্জিন দেখলেই বুঝা যায়। নিঃসন্দেহে এপল এর জন্যে আইফোন এর সেলই এপলকে আরও অনন্য পর্যায়ে নিয়ে যেতে পেরেছে। আর অরিজিনাল আইফোনটা ছিল টেক  রেভ্যুলেশন । এর ডিজাইন থেকে শুরু করে এর ফিচার, সবই ছিল ইউনিক আর ফিউচারিস্টিক। ১৩৫ গ্রাম ওজনের সিলভার এবং ব্ল্যাক কালার এর কম্বিনেশনের ব্যাক , ৩.৫ ইঞ্চি টাচস্ক্রিন, সামনে মাত্র একটি হোম বাটন, ভলিউম বাটন্স, সাইলেন্ট বাটন , উপরে  পাওয়ার বাটন ও পিছনে  একটি ব্যাক ক্যামেরা। এখন এগুলা শুনে হাসি পেলেও ২০০৭ সালে এর জন্যে টেক ওয়ার্ল্ডে  নিঃসন্দেহে এটি রেভ্যুলেশনারি ডিজাইন ছিল ।

 

০৯।  আইফোন ৪এস:  ফ্রন্ট আর ব্যাক স্ক্র্যাচ রেজিজট্যান্স গ্লাস, মেটাল ইউনিবডি, রাউন্ডেড কর্ণার এসব টপ ফিচার নিয়েই এপল তাদের ২০১১ সালের  আইফোনে লঞ্চ করে। তখন প্রত্যেকটি মানুষের মধ্যেই এই ফোনটি সবার আগে কিনে ব্যবহার করার এক বিশাল ট্রেন্ড ক্রিয়েট করেছিল এপল। কেননা তখনও এন্ড্রোয়েড ফোনগুলো নিজেদেরকে গুছিয়ে আনতে পারে নি। ৩.৫ ইঞ্চি ডিসপ্লে, ৯.৩মিমি থিকনেস কম্প্যাক্ট সাইজ সবকিছুই ছিল বিপ্লবের মত। ফোনটির প্রোডাকশন বন্ধ হওয়া সত্ত্বেও আজও আমাদের দেশে অনেক মানুষের হাতে এই ফোন দেখা যায়। আর এতেই বুঝা যায় এপল এর ডিজাইন কতটা রেভুয়লেশনারি ছিল যে আজও মানুষ এই ফোন ব্যবহার করছে।  

 

০৮।  এইচটিসি এম ৭: এলুমিনিয়াম ইউনিবডির ওয়ান অফ দ্যা বেস্ট ডিজাইন এবং ২০১৩ এর সব থেকে স্টাইলিশ ফোনের খেতাব পেয়েছিল এইচটিসি ওয়ান এম ৭। ৪.৭ ইঞ্চির ফুল এইচডি ডিস্পলে, সাইডে কার্বন ফাইবার এর টাচ এবং উপরে ও নিচে জাগ্যান্টিক স্পিকারস গ্রিল বা এইচটিসির ভাষায় বুললে বুম স্পীকার। ফোনটির ডান পাশে রয়েছে ভলিউম বাটন আর উপরে রয়েছে পাওয়ার বাটন। পিছনে রয়েছে এলুমিনিয়াম ব্রাশড ফিনিশ আর কিছুটা আয়তাকার আকৃতির ফোন। ফোনটির থিকনেস ৯.৩ মি.মি.।  ফোনটি সিলভার, রেড, ব্লু, ব্ল্যাক ও গোল্ড কালারে পাওয়া যাবে।

 

০৭।  হুয়াহুয়ে পি ১০  : ২.৫ ডি কার্ভ  ৫.১” গরিলা -৩  ডিসপ্লে, থিন সাইড বেজেল , ফোনের উপড়ের অংশে রয়েছে ফ্রন্ট ক্যামেরা, সেন্সর ও স্পিকার গ্রিল নিচে রয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর, পিছনে   ডায়মন্ড কাটেড ব্যাক গ্লাস , ডুয়াল ক্যামেরা সেটআপ  ও হুয়াহুয়ের ব্র্যান্ডিং । থিকনেস ৭ মিমি ।   সাথে ডিফারেন্ট কালার কম্বিনেশন যেমন- মিস্টিক সিলভার, রোজ গোল্ড, ড্যাজলিং গোল্ড, গ্রাফাইট ব্ল্যাক, গ্রিনারি ও  ড্যাজলিং ব্লু  । আর সব থেকে আকর্শনীয় হলো এর ডিফরেন্ট রিফ্লেকশন । ডায়মন্ড কাটেড গ্লাস হওয়ায় ভিন্ন এঙ্গেল থেকে আলো পরলে তা ভিন্ন রং এর ফ্লেয়ার দেয় যা ফোনকে আরও ইউনিক করে তোলে।

 

০৬।  অনার ৯ : ১৫৫গ্রাম এর গ্লাস মেটাল ইউনিবডি ফোনটির প্রধান আকর্শন হল এর পেছনের দিক । ৩ডি ব্যাক কার্ভ গ্লাস, গ্লসি ফিনিশ আর রিফ্লেক্টিং গ্লাস যা কালার পরিবর্তনের সাথে সাথে গ্লাসের ভেতরে ডিফ্রেন্ট প্যাটার্ন তৈরী করে , ডুয়াল হরিজন্টাল ক্যামেরা এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর। ডানে রয়েছে ট্রেডিশনাল ভলিউম বাটন ও তার নিচে পাওয়ার বাটন।   ফোনটির থিকনেস ৭.৫ মিমি ।  সাথে স্যাফায়ার ব্লু, মিডনাইট ব্ল্যাক, গ্ল্যাসিয়ার গ্রে এর এই তিনটি কালার কম্বিনেশন ।

 

০৫।  হুয়াহুয়ে মেট ৯ (পোর্শে এডিসন) : ফ্যাব্লেট ফোনের মধ্যে সব থেকে আকর্শনীয় এই ফোনটির নির্মাতা হুয়াহুয়ে থাকলেও এটির ডিজাইনে রয়েছে পোর্শের ছোয়া। পোর্শ গাড়ি ম্যানুফ্যাকচার করে থাকলেও তারা সবসময়ই অনেক ভিন্ন গ্যাজেটস বা গিয়ার এর প্রতি তাদের ইন্টারেস্ট  প্রদর্শন করে আসছে। গত ২০১৬ তেও হুয়াহুয়ে’র সাথে মিলে তারা এই লিমিটেড এডিসনের ফোন বাজারে আনে। ফোনটি প্রিমিয়ামনেস শুধু তার দামেই না, তার লুক আর ফিলেও রয়েছে এক ভিন্ন অনুভূতি।  ফুল এলুমিনিয়াম বডি, ২.৫ডি কার্ভড গরিলা গ্লাস, ৫.৫ ইঞ্চি ডিসপ্লে, উপরে রয়েছে স্পীকার গ্রিল, ফ্রন্ট ক্যামেরা ও সেন্সর, নিচে ফিংগার প্রিন্ট স্ক্যানার/হোম বাটন, পিছে ভার্টিকাল ডুয়ো ক্যামেরা সেটাপ। ফোন্টির থিক্নেস ৭.৫ মি.মি.। ফোনটি শুধুমাত্র একটি কালারেই এভেলিয়েবল তা হল গ্রাফাইট ব্ল্যাক।

 

০৪।  স্যামসাং গ্যালাক্সি  নোট  / নোট ফ্যান এডিশন  :  স্যামসং, সবথেকে সাকসেসফুল এন্ড্রোয়েড ম্যানুফেকচারার। আর সাকসেসফুল তো শুধু ভালো হার্ডওয়্যার এর জন্যে না, সাকসেসফুল তারা তাদের ডিজাইনের জন্যে। নোট ৭ এর কন্ট্রোভার্সি এরপর স্যামসং আবার তাদের নোট ৭ রিলঞ্ছ করেছে গ্যালাক্সি নোট ফ্যান এডিশন নামে। অন্য স্যামসং ফ্ল্যাগশিপের মত এই ফোনেও রয়েছে এজ টু এজ কার্ভড ৫.৭” ডিসপ্লে আর ব্যাক । পুরো ফোনটি সিমেট্রিক্যালি ডিজাইন করা হয়েছে। ফ্রন্টে  উপরে  থাকছে সেন্সর, ক্যামেরা ও স্পীকার গ্রিল। নিচে রয়েছে মেন্যু বাটন/ ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর ও দুপাশে ব্যাক আর অপশন বাটন। পিছনে ক্যামেরা , ফ্ল্যাশ ও সেন্সর আর স্যামসং ব্রান্ডিং আর কার্ভড গ্লাসের গ্লসি ফিনিশ। ফোনটির থিকনেস ৭.৯ মিমি। ব্ল্যাক অনিক্স, কোরাল ব্লু , গোল্ড প্লাটিনিয়াম, টাইট্যানিয়াম সিলভার।

 

০৩।  মি মিক্স : স্মার্টফোনের কারেন্ট ডিজাইন অনেকের কাছে একই রকম বা বোরিং মনে হলে এই ফোনটির ডিজাইন ঠিক তারই জবাব। বেজেললেস ডিজাইন, ওয়ার্ল্ডের প্রথম  সিরামিক ব্যাক, গ্লসি ফিনিস। এই ফোনটির বেজেল এতটাই মিনিমাম যে ফোনের টপ সাইডে ফ্রন্ট ক্যামেরা বা কিছুই দেয়া সম্ভব হয় নি তাই ফ্রন্ট ক্যামেরা শিফট হয়েছে ফোনের নিচের পোর্শনে ঠিক ৬.৪ ইঞ্চি গর্জিয়াস স্ক্রিনের নিচেই আর এর ৯৩% ফ্রন্ট প্যানেলই  স্ক্রিন রেস্পেক্ট টু বডি । আর ফোনে কথা বলার জন্যে রয়েছে আল্ট্রা সনিক স্পীকার যা ভাইব্রেট এর ফোলে ইউজার শব্দ শুনতে পায়। ফোনটির থিকনেস ৭.৯ মিমি। ফোনটি সাদা ও কালো এই দুটি কালারে পাওয়া যাচ্ছে।

০২।  এসেন্সিয়াল: এন্ডি রুবিন , দ্যা ফাদার অফ এন্ড্রোয়েড । কেননা এন্ড্রোয়েড শুরুটা তার হাতেই। ২০১৪ এ হঠাৎ করে গুগল থেকে রিজাইন করার পর অনেক রিউমারসি শুনা যাচ্ছিল যে তিনি নতুন ফোন লঞ্চ করবেন অবশেষে ২০১৭ সালে তিনি লঞ্চ করলেন ” এসেন্সিয়াল পি এইচ-১ ” নামের স্মার্টফোন।  ফোনটির মূল আকর্শন শুধু এর বেজেললেস ডিজাইন না । এর কি ফিচার হোল এর ম্যাটেরিয়াল কারণ ফোনটি বানানো হয়েছে টাইটেনিয়াম দিয়ে যা স্ক্রাচ, ডেন্ট এবং বেন্ড প্রুফ। ফোনটি ৭.৫১ ইঞ্চি ডিসপ্লে, ফ্রন্ট সাইডের উপরে অলমোসট নো বেজেল, শুধু মাত্র ক্যামেরার জন্যে মাঝে একটু রাউন্ডেড কাট। পিছনে রয়েছে ফ্ল্যাশ, ডুয়ো ক্যামেরা সেটাপ আর দুটো পিন যেটা দিয়ে অনেক এক্সট্রা এক্সেসরিজ এড করা যাবে। যেমন ৩৬০ ক্যামেরা।  অর্থাৎ এটি একটি মডিউলার ফোন ।  থিকনেস ৭.৯ মিমি। ফোনটি পিউর হোয়াইট, ব্ল্যাক মুন, অসান ডেপতস ও স্টেলার গ্রে কালারে পাওয়া যাবে।