ওড়ো অবাধে হয়ে অবাধ্য
        অর্জিত হোক যা কিছু অসাধ্য...



ডিজিটাল ক্যামেরার হাড্ডি গুড্ডি

ফ্লিম ক্যামেরার প‌্যাচালটা যদি বুঝে থাকেন তাহলে ডিজিটাল ক্যামেরার কথাবার্তা গুলো খুব সহজ মনে হবে। সোজা হিসাব… ফ্লিমটার জায়গায় খালি একটা সেনসর চিন্তা করেন, ব্যস হয়ে গেল ডিজিটাল ক্যামেরা। তাইলে সেনসর জিনিষটা কি এটা আগে বুঝা লাগবে।

সেনসরের আক্ষরিক অনুবাদ হলো যা কিসু একটা সেন্স করে। এই “কিসু”টা যে কোন “কিসু” হইতে পারে। যেমন ধরেন মোশন সেনসর নাড়াচাড়া সেন্স করতে পারে, হিট সেনসর গরম না ঠান্ডা হেইডা সেন্স করতে পারে। এইখানে যে সেনসর নিয়া আলাপ হইবো সেইটা হইলো “ইমেজ সেনসর” যেইটা আলো সেন্স করতে পারে। অবশ্য “ইমেজ সেনসর” শুধু আলো সেন্স কেইরা বইয়া থাকেনা, আলোটারে আবার ইলেকট্রিকাল সিগন্যালেও রুপান্তর করতে পারে।
“ইমেজ সেনসর” সাধারনত দুই ধরনের হয়। সি.সি.ডি (CCD = Charged Couple Device) আর সিমোস (CMOS = Complementary Metal Oxide Semiconductor)। নাম,গঠন যেইটাই হোক দুইটারি একই কাম। আলোরে ইলেকট্রিকাল সিগন্যাল বানানো। এরা ক্যামনে কাজ করে সেইটা বোঝনের চেয়ে কি কাজ করে সেইটার আইডিয়াটা দরকার বেশি । তাই বেশি থিউরিতে গেলাম না।

ধরেন একটা আয়তোক্ষেত্রে বাংলাদেশের সব রাজাকার গুলারে গাদাগাদি কইরা দাড়া করানো হইলো আর আপনে একটা গুলতি লইয়া এক একটারে নিশানা কইরা ঢিলা মারা শুরু করলেন। যার চান্দিতে ঢিলা লাগতাসে হে চিল্লান দিতাসে আর আপনের বন্ধু কেউ একজন ক্যাডায় চিল্লান দিলো হেইডা লিখা রাখতাসে ।

এখানে আপনে হইলেন আলোর উৎস, ঢিলা গুলান হইলো আলোর কনিকা ফটোন,রাজাকারগুলান হইলো ফটো সেনসিটিভ সেল, তাগোর চিল্লানোটা হইলো ইলেকট্রিকাল সিগন্যাল আর আপনের যেই বন্ধু ক্যাডায় ক্যাডায় চিল্লাইলো লিখ্খা রাখতাসে হে হইলো ইমেজ প্রসেসর।

ইমেজ প্রসেসরের কামের কুনো শেষ নাই। এই হালায় ইলেকট্রিকাল সিগন্যালগুলারে পিক্সেল(বিস্তারিত শেষে আসে) বানায়, মেমরিতে সেভ করে, ক্যামেরার মনিটরে দেহায় এমনকি অনুরোধের ফাপরে পইরা কিসু এফেক্টও দিয়া দেয় মাঝে সাঝে। ইমেজ প্রসেসর কতো শক্তিশালি তার উপর ক্যামেরার দামও অনেক নির্ভর করে। যদি আপনের ডিজিটাল ক্যামেরা বা ক্যামেরা ওয়ালা ফোনের ম্যানুয়ালটা কাসাকাসি থাকে তাইলে এটট্টু কষ্ট কইরা ২টা জিনিষ খুইজা বাইর করেন ওইখানে । এক, “সেনসর টাইপ” এ কি লেখা আসে? সিসিডি না সিমোস? আর দুই, “ইমেজ প্রসেসর টাইপ” এ কি লেখা আসে? যেমন আমি জানি আমার ক্যানন ৪৫০ডি এর সেনসর টাইপ হইলো “সিমোস” আর ইমেজ প্রসেসর টাইপ হইলো “ডিজিক ৩”।

যাউকগা আগের লেখাটায় বলতেসিলাম ফ্লিমের কি কি সাইজ হয়। একই রকম ভাবে সেনসরেরও কয়েকরম সাইজ হয়। কি টাইপের ক্যামেরা সেইটার উপর নির্ভর করে সেইটাতে কি সেনসর ব্যবহার করা হইসে। মোবাইল ক্যামেরার ছবি বাসার ডিজিটাল ক্যামেরার মতো সুন্দর আসে না ক্যান? শুধু মেগাপিক্সেল কম ওই জন্য না কিন্তু। ছবি সুন্দর হয় কারন মোবাইল ক্যামেরার ইমেজ সেনসর ছোট আর ডিজিটাল ক্যামেরার ইমেজ সেনসর বড়। আবার আইফোনে কিন্ত ইমেজ সেনসর অন্য মোবাইলের চেয়ে বড় তাই এইটাতে ছবি ভাল আসে।

ফ্লিম এস.এল.আরের কথা এর আগের লেখায় বলা হইসে। এইবার সেইটার ফ্লিমের যায়গায় একটা ইমেজ সেনসর কল্পনা করেন। হইয়া গেলো ডিজিটাল এস.এল.আর। ডিজিটাল এস.এল.আরে বেশ কয়েক ধরনের সেনসর ব্যবহার করা হয়। ইমেজ সেনসরের সাইজটা যদি ফিল্মের সাইজের সমান (৩৫ মি.মি. বাই ২৪ মি.মি.)বা কাসাকাসি হয় তাইলে সেইটারে বলা হয় ফুল ফ্রেম সেনসর আর ক্যামেরাটারে বলে ফুল ফ্রেম ডিজিটাল ক্যামেরা।

কিন্তু কোন ক্যামেরার ইমেজ সেনসর যদি ফুল ফ্রেম সেনসর এর চেয়ে ছোট হয় তাইলে কি হইবো? তাইলে ফুল ফ্রেম সেনসরে যে ছবিটা পরতো, ছোট সেনসরে তার সেই একি ছবির চারপাশের বর্ডারের কাছ থেইকা কাইটা মাঝখানে যেট্টুক বাচে ততখানি পরবো। টিফিন বক্স যদি পাইরুটির চেয়ে ছুডু অয় তাইলে চারপাশ ফালাইয়া ঢুকাইতে হয় না? ওইরকম আরকি।

এই কাইটা ফেলনের ঘটনাডারে কয় ক্রপিং আর কোন সেনসর কতখানি কাটবো তারে কয় ক্রপ ফ্যাকটর। যেমন আমার ক্যামেরার (ক্যনন ৪৫০ডি) ক্রপ ফ্যাকটর ১.৬ । এইটার মানে হইলো ফুল ফ্রেম সেনসরের চেয়ে আমার ক্যামেরার সেনসর ১.৬ গুন ছোট।

ক্যামেরার কিননের সময় (অথবা কিন্না ফালাইলে কিননের পরে) ক্যামেরার ক্রপ ফ্যাকটর জানাটা দরকারি। ফুল ফ্রেম ইমেজ সেনসরে ক্রপ সেনসরের তুলনায় কম নয়েজ আর বেশি ডিটেইল ছবি পাওয়া যায়। এই পার্থক্যটা খুব ভাল মতো বোঝা যায় কম আলোয় ছবি তুলতে গেলে। যেহেতু কম আলো সেহেতু আই.এস.ও বাড়াইতে হয়। যেহেতু আই.এস.ও বাড়াইতে হয় সেহেতু নয়েজ আসার প্রবনতা বাড়ে। ইমেজ সেনসর যত বড় হয় সেইটা এই নয়েজকে তত ভালভাবে হ্যান্ডেল করতে পারে।

যেইকারনে ফুল ফ্রেম ক্যামেরায় অনেক হাই আই.এস.ও যেমন ৬৪০০ এ ফটো তুললেও ছবিতে নয়েজ আসে না। কিন্তু একি কাজটা যদি কোন পয়েন্ট এন্ড শুটে করতে যান তাইলে যতই হাই আই.এস.ও সাপোর্ট করুক মোটামুটি ২০০ এর উপরে গেলেই ছবিতে গ্রেইন আসা শুরু করবো। আমার ক্যামেরায় আমি ৪০০-৮০০ পর্যন্ত মোটামুটি ভাল পারফরমেন্স পাই।

কয়েকটা ইমেজ সেনসরের নাম জাইনা রাখা ভাল। তাইলে পরে মিলায়া দেখতে পারবেন ম্যানুয়ালের সাথে (এইখানে বইলা রাখি ক্যামেরার ম্যানুয়াল পরাটা একটা ফরজ কাজ ) । ফুল ফ্রেম ইমেজ সেনসরের আলাদা কোন নাম নাই, এই নামেই পরিচিত। ক্রপ সেনসরের মধ্যে ক্যাননের প্রো লেভেলের গুলায় ব্যবহার হয় APS-H সেনসর ( ২৮.৭ মি.মি. বাই ১৯ মি.মি.) যেইটার ক্রপ ফ্যাকটর ১.৩। নাইকনের ক্রপ সেনসর ক্যামেরা গুলা শুরু হয় ক্রপ ফ্যাকটর ১.৫ থেইকা। সেনসরের নাম DX । ক্যাননের ক্রপ ফেকটর ১.৫ এর সেনসরের নাম APS-C। সনি আলফা সিরিজের কিসু ক্যামেরায় ১.৫ ক্রপ ফ্যাকটরের সেনসর ব্যবহার হয়। এই APS-C সেনসরের মধ্যে আরেকটা আসে যেগুলা ক্যাননের এন্ট্রি লেভেল ডি এস এল আরে ব্যবহার হয় । এইগুলার ক্রপ ফ্যাকটর ১.৬।

ডিজিটাল কমপ‌্যাকট ক্যামেরা যাকে আমরা বলি পয়েন্ট এন্ড শুট, এ ক্রপ ফ্যাকটর শুরু হয় ৩ থেইকা, যেইটা ৭ পর্যন্ত যাইতে পারে। মোবাইলের ক্যামেরার ক্রপ ফ্যাকটর সাধারনত ১৪ থেইকা শুরু হয়।
ইমেজ সেনসর আর ক্রপ ফ্যাকটর নিয়া এতো কচকচানির উদ্দেশ্যটা যখন ক্যামেরার লেন্স নিয়া কথা কমু তখন বুঝা যাইবো। একই লেন্স, ক্রপ ফ্যাকটরের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ক্যামেরায় ভিন্ন ভিন্ন আচরন করে।
এই তো গেল ৩৫ মি.মি ফরমেটের ডিজিটাল ক্যামেরার কথা। এ ছাড়া মিডিয়াম ফরমেটের ডিজিটাল ক্যামেরাও আসে যেইটার সেনসরের সাইজ ৩৬ বাই ৪৮ মি.মি এর মতো।

পিক্সেল আর মেগাপিক্সেল
ডিজিটাল ক্যামেরায় আরেকটা টার্ম খুব বেশি ব্যবহার করা হয় যেইটা হইলো পিক্সেল। পিকচার এলিমেন্ট বা সংক্ষেপে পিক্সেল হইলো ছবি বানানির ইট। ইমেজ সেনসর আলোরে ইলেকট্রনিক সিগন্যালে রুপান্তরের পর ইমেজ প্রসেসর পিক্সেলের পরে পিক্সেল সাজায়া ছবি টা বানায়। তয় ম্যাক্সিমাম কয়টা পিক্সেল ব্যবহার করতে পারবো সেইটা নির্ভর করবো সেনসরের সাইজের উপর । এখন আপনের ক্যামেরা যদি প্রসেসর রে কয় আব্বে ওই ! একটা ১০ মেগা পিক্সেলের ছবি বানা তো । তাইলে প্রসেসর মামায় সেনসরের সাহায্য লইয়া দৈর্ঘ্য বরাবর বসাইবো ৩৮৭২টা পিক্সেল আর প্রস্থ বরাবর বসাইবো প্রতি কলামে ২৫৯২টা পিক্সেল। তাইলে টোটাল পিক্সেল হইবো ৩৮৭২ গুন ২৫৯২ = ১০০৩৬২২৪টা পিক্সেল বা ১০ মেগাপিক্সেল।

তাহলে বুঝতেই পারতাসেন আপনের যেই ক্যামেরাই হোক চেষ্টা করবেন যদি মেমরি থাকে তাইলে অবশ্যই সবচেয়ে ম্যাক্সিমাম পসিবল মেগাপিক্সেলে ছবি তুলতে।

কার্টিসিঃ বিডি ইনফো জোন