ওড়ো অবাধে হয়ে অবাধ্য
        অর্জিত হোক যা কিছু অসাধ্য...



আই.এস.ও (ISO)
এই একটা ছোট জিনিষ বাকি এক্সপোজার নিয়ে আলোচনার আর সেটা হলো আই.এস.ও। ছোট নাম হলেও এর ক্ষমতা ব্যাপক। আই.এস.ও নামের ইতিহাস না বলে সরাসরি চলে যাই জিনিষটা কি সেটাতে (ইতিহাস জানতে চাইলে উইকিপেডিয়ায় সার্চ দিতে পারেন..)

আই.এস.ও হলো ফ্লিম বা সেনসর কতটা Light Sensitive বা আলোক সংবেদী সেটা । একটা ফ্লিম যদি বেশী আলোক সংবেদী হয় তাহলে কি হবে? তাহলে ওটা কম আলোতেই আলোর সাথে রিয়েকশন ঘটাতে পারবে। আর যদি কম আলোক সংবেদী হয় তাহলে কি হবে? তাহলে এটাতে রিয়েকশন ঘটাতে হলে অনেক বেশি “পরিমান” আলো বেশি “সময়” ধরে ফেলা লাগবে। আশা করি সময় আর পরিমান ক্যামেরায় কি দিয়ে কন্ট্রোল করা যায়, সেটা এখন জানেন।
জিনিষটা অনেকটা এরকম যে, আমার অনেক কাতুকুতু। কেউ আমারে কাতুকুতু দেবার ভাব করলেও আমি লাফ দিয়ে উঠি। অথচ গন্ডারকে এই কাজটা করতে গেলে আপনারে পাত্তাও দিবেনা। এর মানে হইলো আমি বেশি কাতুকুতু সংবেদী, আমারে হাসাইতে হইলে কম কাতুকুতু দিলেই চলে। আর গন্ডার কে কম কাতুকুতু সংবেদী, তারে হাসাতে বেশী কাতুকুতু দেয়া লাগে ।

যাক আই.এস.ও তে ফিরে আসি। ফ্লিম ক্যামেরার ক্ষেত্রে , অ্যাপারচার আর শাটার ক্যামেরাতে থাকলেও আই.এস.ও জিনিষটা হলো ফ্লিমের একটা প্রপার্টি। ফ্লিম কেনার সময় দোকানদারকে হ্য়তো বলতে শুনেছেন ১০০ পাওয়ারের ফ্লিম, ২০০ পাওয়ারের ফ্লিম। ফ্লিমের গায়েও লেখা থাকে (ডিজিটালের ক্ষেত্রেও একি জিনিষ শুধু ফ্লিমের জায়গায় সেনসর)। এই ১০০ বা ২০০ ই হইলো ওই ফ্লিমটার আই.এস.ও। আই.এস.ও এর মান যা যা হতে পারে তা হলো ১০০,২০০,৪০০,৮০০,১৬০০, … ইত্যাদি। খেয়াল করেন এপারচার আর শাটার স্পিডের মতো, ডাবল বা অর্ধেক হওয়ার ব্যাপারটা এখানেও আছে।

আই.এস.ও ১০০ মানে কম আলোক সংবেদী আর ৮০০ মানে বেশী আলোক সংবেদী। তো যেখানে অনেক বেশী আলো আছে (যেমন বিয়ে বাড়ি বা সূর্যোজ্জল দিন) ওখানে তো আমার বেশী আলোক সংবেদনের দরকার নাই, তাই আমরা আই.এস.ও ১০০ বা ২০০ ব্যবহার করি। আবার ধরেন অন্ধকার রাতে জলন্ত মোমবাতির ছবি তুলতে গেলে আই.এস.ও বাড়িয়ে ৮০০/১৬০০ করতে হতে পারে।

আই.এস.ও বাড়ানোর একটা ঝামেলাও আছে। ঝামেলাটা হলো, আই.এস.ও যতো বাড়াবেন, ছবিতে grain বা noise ততো বেশি আসবে। তাই আই.এস.ও বাড়ানোর সময় খেয়াল করতে হবে।

কার্টিসিঃ বিডি ইনফো জোন