ওড়ো অবাধে হয়ে অবাধ্য
        অর্জিত হোক যা কিছু অসাধ্য...

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে একটা কথা বলেছিলেন, “…আমরা আর আগ্রাসী হবো না, তার মানে এই না যে আমরা আমাদের নিজেদের স্বার্থ ছেড়ে দেবো।” আমাদের সবার মনেই এখন একটাই প্রশ্ন যে আমাদের পররাষ্ট্রনীতি কি এতোটাই নতজানু হয়ে গেছে যে আমরা মায়ানমারকে কোন ধরনের জবাব দিয়ে দেখাতে পারছি না যে আমরাও দূর্বল নই! এই লেখার মাধ্যমে সেই ব্যাপারগুলোই খন্ডনের একটু চেষ্টা করা হবে।

আমরা কেন ওদের সাথে যুদ্ধে যাচ্ছি না?

আলোচনার মাধ্যমে যদি কোন কিছুর সমাধান করা যায় তবে আমাদের যুদ্ধে কেন যেতে হবে! আর এখন পর্যন্ত আলোচনার পথ বন্ধ হয়নি যে আমাদের যুদ্ধে যেতে হবে বা ওরকম কিছু চিন্তা করতে হবে। একুশ শতকে যুদ্ধটা কম্পিউটার গেম খেলা যোদ্ধা কিংবা ফেইসবুক কিংবা অন্য স্যোস্যাল সাইটের বিশ্লেষকদের কাছে যতটা সোজা, বাস্তবিক জীবনে সেটা ততটাই কঠিন। কারন আপনি হয়তো যুদ্ধটা শুরু করে দিতে পারবেন কিন্তু শেষ করতে পারবেন কি? জর্জ বুশ চেয়েছিলেন ৭ দিনের মধ্যে সাদ্দাম হোসেনকে পদচ্যুত করে ইরাকের দখল নিতে, ১৬ বছর পরও কি তা শেষ হয়েছে? রাশিয়া যখন আফগানিস্তান দখল করে তখন ওরা ভেবেছিলো এটা ১৫ দিনের ব্যাপার কিন্তু এটা এখনো চলছে। একটা কথা মনে রাখা দরকার, “Action should be taken at the right place and the right time” 

অর্থাৎ সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে; সঠিক সময়ে ভুল সিদ্ধান্ত কিংবা ভুল সময়ে ঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে কোন ফল আসবে না। মিয়ানমার চাচ্ছে আমরা যুদ্ধ করি, It’s just a trap for us। আর যে মিয়ানমার এর সাথে আপনি যুদ্ধ করতে চাচ্ছেন সেই মিয়ানমারের চাল-ই আপনার পেটে পরছে । ২১ শতকের এই সময়ে একটা দেশ যখন যুদ্ধে জড়াতে চায় তখন তার অনেক কিছু ভাবনা চিন্তা করতে হয়। এটা শুধু এমন না যে, ট্রুপ্স পাঠিয়ে দিলাম আর যুদ্ধ জয় করে ফিরে আসলাম। এই আলেকজান্ডার টাইপ যুদ্ধ এখনকার সময়ে আর চিন্তাযোগ্য নয়। মালদ্বীপ আপনার সাথে ব্যবসায়িক লেন্দেন বন্ধ করে দিয়েছে, আপনি মিয়ানমারের চাল ৭৫টাকা কেজি দড়ে কিনে খাচ্ছেন। এখন যদি যুদ্ধে যান আপনি কি ১০০ টাকা করেও চাল পাবেন? এটা তো শুধু এক চালের উদাহরণ। আরেকটা ব্যাপার নিয়ে বলা যায়, সেটা হচ্ছে “কূটনীতি”। আপনি জানেন কি ১৯৭১ সালের যুদ্ধে তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী  যুদ্ধক্ষেত্রে  বাংলাদেশকে সরাসরি সাহায্য করতে কেন ৭ মাস সময় নিয়েছিলেন? তিনি ওই ৭ মাস কিন্তু বসে ছিলেন না। বাংলাদেশের শরনার্থীদের ঠাই দিয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেইন করার সুযোগ দিয়েছেন আরেকটা কাজ তিনি করেছিলেন, সারা বিশ্ব সম্প্রদায়ের সাথে যোগাযোগ। উনি বিশ্ব সম্প্রদায়কে জানিয়েছেন যে, দেখো আমি কিন্তু অমুক অমুক সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর ফলে যা হয়েছে তা হলো যখন ভারত আমাদের সাথে যৌথবাহিনী হয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহন করলো তখন বিশ্ব সম্প্রদায় এবং প্রতিপক্ষ এ কথা বলতে পারেনি যে আলোচনার মাধ্যমে এর শেষ আনা যেতো। যাহোক, আমাদের কূটনৈতিক পন্থা এই মুহুর্তে এমন হওয়াটাই শ্রেয়। যাতে করে ভবিষ্যতে আরো কোন সঙ্কটময় অবস্থার সৃষ্টি হলে মিয়ানমার যেন বলতে না পারে যে এখানে আলোচনার সুযোগ ছিলো এবং আমরা তা নষ্ট করেছি।

তাই বলে ওরা বারবার আমাদের আকাশ সীমা লঙ্ঘন করবে আর আমরা তা মেনে নিয়ে চুপ করে থাকবো?

আমরা কি করতে পারি? 

১৯৯১ সালে এরকম একটা সঙ্কটের সৃষ্টি হয় এবং সেসময় সরকার “রামু” সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ করেন এবং পরবর্তীতে রামুতে ক্যন্টনমেন্ট হয়, সেখানে এখনো ১ ব্যাটলিয়ন সৈন্য সীমান্ত ফোর্স হিসেবে রিজার্ভ করে রাখা আছে। এখানে লক্ষ্যণীয় যে, রামু ক্যন্টনমেন্ট থেকে মিয়ানমার সীমান্ত ১০ মিনিটের পথ।

এছাড়া আমরা যা করতে পারি, তা হলো, বন্ধু রাষ্ট্রদের নিয়ে সমুদ্রে আমাদের জলসীমার দক্ষিণে একটা মহড়া চালানো যেতে পারে। তবে এখানেও মুখ্য হচ্ছে কূটনীতি । আপনি নিশ্চয়ই রাখাইনের জন্যে চীনের সাথে বন্ধুত্ত হারাতে চাইবেন না।

পর্ব ১ঃ সমাপ্তি