ওড়ো অবাধে হয়ে অবাধ্য
        অর্জিত হোক যা কিছু অসাধ্য...
প্রেম মানুষের জীবনে একবার না একবার আসবেই। কখন আসবে বলা যায় না। চকিত প্রথম চাহনী অথবা আকষ্মিক ভালো লেগে যাওয়া হতে পারে প্রথম প্রেমের কারণ। সাধারণত ১৫-২১ বছর বয়সে অধিকাংশ মানুষ প্রথমবারের মত প্রেমে পড়ে। তবে প্রথম প্রেম হতে পারে ২৫ বা তার পরেও।
 
প্রথম প্রেমগুলো পরিণতির দিকে যদিও কমই যায়, তবুও প্রথম প্রেম সহজে কেউ ভুলতে পারে না। প্রথম প্রেমকে পরিণতির দিকে নিতে না পারার সর্বপ্রধান কারণ সাহস করে বলতে না পারা। লজ্জা, সংকোচ, রিয়্যাকশন কি হবে এসব ভেবে অনেকেই পিছিয়ে আসেন। কিন্তু সব সমস্যাকে দূর করা সম্ভব যদি আপনার মনের জোরটা ঠিক থাকে। প্রথম প্রোপোজ করবেন কি ভাবে সে বিষয়ে কিছু শর্ট টিপস দিচ্ছি। হেল্পফুল হবেই, যদি কাজে লাগাতে পারেন।
১. আগে ভাবুন সত্যি ভালোবাসেন নাকি ক্ষণস্থায়ী ভালো লাগার আবেগ। সময় নিন। ভালোবাসা খাঁটি কিনা যাচাই করার জন্য কয়েকদিন প্রিয় মানুষটি থেকে দূরে থাকুন ও সবরকম যোগাযোগ বন্ধ করে দিন।যদি দেখেন যে তার কথা ভাবছেন বারবার, তার কথা অজান্তেই মনে পড়ছে, তার অভাব বোধ হচ্ছে তবে বুঝবেন আর দেরী নয়। এবার বলে ফেলুন ভয় ঝেড়ে ফেলে। আর যদি দেখেন সে আপনার শূন্যতায় ব্যাকুল হয়ে উঠেছে, আপনার সাথে রাগান্বিত হচ্ছে তার সাথে যোগাযোগ না রাখার জন্য তবে বুঝবেন এটাই সবচেয়ে উত্তম সময় মনের কথাটা বলে দেয়ার। তবে অনেক দীর্ঘ যোগাযোগ বিরতির ফলাফল হিতে বিপরীত হতে পারে।

২. মানুষ প্রথম প্রোপোজের সময় যেসব সংকোচে ভোগে সেগুলোর মধ্যে প্রধান প্রধান হচ্ছে তার রিয়্যাকশন কি হবে, আমার চেয়ে দেখতে অনেক বেশী সুন্দর না তো, সে কি সিংগেল নাকি অন্য কোন সম্পর্কে আছে, রিলেশনের ফলাফল কি হবে, পারিবারিকভাবে বিষয়টা কেমন দাঁড়াবে, প্রিয় মানুষটির সাথে আগের বন্ধুত্ব বা ভালো সম্পর্কটা নস্ট হবে না তো!

আচ্ছা এবার এক এক করে আসি,

প্রথমত, কাউকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়া দেশের আইন অনুযায়ী অপরাধ নয়। আপনার প্রেমের প্রস্তাব দেয়ার পদ্ধতিটা ন্যায়সংগত হলে কারো এখানে রিয়্যাকশন দেখানোর অধিকার নেই। তারপরেও যদি রিয়্যাকশন দেখিয়েই ফেলে তাহলে এমন কিছুই হবে না, যদি আপনি “আমি তোমাকে ভালোবাসি” এই নীতি থেকে সরে না আসেন। রিয়্যাকশন দেখে ভ্যাবাচ্যাকা না খেয়ে আপনার পার্সোনালিটি দিয়ে বিষয়টা হ্যান্ডেল করুন। আর কড়া রিয়্যাকশন দিয়ে প্রোপোজ রিজেক্ট করার পর তারচেয়ে কড়া প্রেমে হাবুুডুবু খাবার ইতিহাস প্রচুর পরিমানে আছে।

সো, নো টেনশন, কিপ ডেডিকেশন।
দ্বিতীয়ত, প্রিয়জন আপনার চেয়ে রূপে গুনে এগিয়ে থাকলে এটা নিয়ে হীনষ্মন্যতায় ভোগার কোন কারণ নেই। ভালোবাসা অনুভব করার অনেকগুলো নিয়ামক আছে। রূপ সেগুলোর একটা। কিন্তু আরো অনেক নিয়ামক আছে।যেমন – আপনার সোস্যাল স্টাটাস, ব্যবহার, স্মার্টনেস, দায়িত্ববোধ, সৃজনশীলতা, তুখোড় বুদ্ধিমত্তা, রসবোধ, সততা, ধার্মিকতা এমনকি আপনার পাগলামী, সরল বোকামি, দুখবিলাস এবং আপনার অসহায়ত্ব থেকে সৃষ্ট সহানুভূতি কারো মধ্যে আপনার জন্য দুর্বলতা তৈরি করতে পারে। সুতরাং আপনাকে জানতে হবে সে কি চায়।
 
তৃতীয়ত, সে সিংগেল কিনা এংগেজড সেটা জানার সবচেয়ে সহজ উপায় তার লাইফ স্টাইল ফলো করুন। সে সোস্যাল মিডিয়ায় কতক্ষণ সময় দিচ্ছে এবং কি করছে, আপনার সাথে যতক্ষণ থাকছে কতটা প্রায়োরিটি দিচ্ছে, তার ড্রেস আপ, অ্যাটিটিউড বুঝার চেস্টা করুন। দেখবেন ঠিকই বুঝে যাবেন সে সিংগেল কিনা। তাও না হলে তার কাছের বন্ধু বা আত্মীয়কে হাত করতে পারেন অথবা কনফিডেন্স থাকলে সরাসরি জিজ্ঞেস করতে পারেন। ব্যাটে বলে হয়ে গেলে ভণিতা ছাড়াই বলে ফেলুন ভালোবাসার কথা।
 
চতুর্থত,
পরিবার থেকে সমস্যা তৈরি হবে কিনা, আপনার মনের মানুষটির পরিবার, ধর্ম, বর্ণ, পেশা এসব আপনার পরিবারে গ্রহণযোগ্য কিনা এসব চিন্তায় ব্যতিব্যস্ত হলে প্রেম না করে পরিবারের পছন্দে বিয়ে করুন। সুখে থাকবেন।
সবশেষে, আপনি প্রোপোজ করার কারণে যে বন্ধু চলে গেল সে আসলেই কি আপনার বন্ধু ছিল? ভেবে দেখবেন। ভাল সম্পর্ক নস্ট হবার ভয়ে আজ নিজে জানাচ্ছেন না, কালকে অন্য কারো মাধ্যমে অথবা আপনার অসাবধানতায় ভিন্নভাবে তার কাছে আপনার পছন্দের বিষয়টা উপস্হিত হলে হিতে বিপরীত হতে পারে। তারচে বলেই ফেলুন নিজ মুখে।তাতে আর যাই হোক ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হবে না।

 

৩. সোস্যাল মিডিয়া বা ফোনে প্রোপোজ করা এক ধরণের বোকামি। আপনার ইমোশন কখনই এভাবে বুঝাতে পারবেন না। এই ভাবে একমাত্র হাইলি এক্সপার্ট লাভাররা সফল হন।কিন্তু প্রেমের মাঠে অভিষেকটা এভাবে না করে সরাসরি করাই ভাল। সফল না হতে পারেন, সাহস আর একটা এক্সপেরিয়েন্স তো পাবেন।আর চোখে চোখ না রেখে বলতে না পারলে লাভ লেটার লিখতে পারেন।তবে রক্ত দিয়ে লিখতে যাবেন না। লিখলেও নিজের রক্তে না লেখাই ভালো, রিজেক্ট হলে কষ্ট সামলাতে পারবেন না। 😉
 
৪. প্রোপোজ করার আগে আয়নায় কয়েকবার দেখে দেখে রিহার্সাল করে নিতে পারেন। তবে মনে রাখবেন আপনার কনফিডেন্স আর দৃঢ়তা আপনার সাফল্যের সবচেয়ে বড় প্রভাবক। হাল ছাড়া যাবে না।
 
৫. প্রোপোজ করার সময় আপনি অতীতে তার জন্য কি করেছেন, ভবিষ্যতে কি করবেন এসব প্রতিশ্রুতি শোনানোটা ন্যারো মেন্টালিটির পরিচয় দেয়।পরিবেশটা হঠাৎ গুরুগম্ভীর হয়ে যাবে। এইরকম প্রোপোজ যারা করে আর যারা একসেপ্ট করে উভয়েরই মানসিক দৈন্যতা আছে।
 
৬. স্পেশাল অকেশনে প্রোপোজ করা, সুন্দর (এখানে দাম ফ্যাক্ট না) গিফটসহ প্রপোজ করা, সুন্দর একটা ড্রামাটিক সিচুয়েশন তৈরি করে ইংগিতে প্রোপোজকরা এসব সাফল্যের হার বাড়ায়, বৈ কমায় না।

 

৭. কি কি বলবেন, কোন কোন শব্দ উচ্চারণ করবেন তাও বড় একটা ফ্যাক্ট। যেসব শব্দ আবেগ তৈরি করে সেসব শব্দ আপনার প্রোপোজে অথবা লাভ লেটারে সুকৌশলে Include করতে পারেন। যেমন ভালোবাসা, ফুল, সমুদ্র ইত্যাদিকে আবেগযুক্ত শব্দ বলা যায়।কারণ এসবের সাথে আমাদের সুখস্মৃতির একটা কানেকশন আছে। আর ভালোবেসে মানুষ সুখই পেতে চায়। কষ্ট পাওয়ার আশায় কেউ প্রেম করে না।
 
৮. প্রোপোজটা এমনভাবে করবেন না যাতে সেটা হ্যারেসমেন্টের পর্যায়ে না যায়। যেমন অনেক ছেলেই মনে করেন শারীরিকভাবে একটা মেয়েকে উত্তেজিত করতে পারলেই হয়তো সেই মেয়ে তার কাছে ধরা থাকবে। পক্ষান্তরে, অনেক মেয়েই মনে করেন শারীরিকভাবে তার প্রিয়জনের মাঝে বাঁধা দূর করে ফেললেই সে হয়তো প্রেমে আকৃষ্ট হবে। ভুল ধারণা একেবারেই। যে কোন মেয়েই অচেনা পুরুষের কামুক ও কৌতুহলী দৃষ্টিতে বিব্রত ও শংকিত অনুভব করেন। আর ছেলেরা সহজে কোন মেয়ের কাছাকাছি আসতে পারলে তার কাছে ঐ মেয়েকে ভ্যালুলেস মনে হয়।
 
আশা করি, এই টিপসগুলো আর কিছু না হোক আপনাকে সাহস দেবে। ভাবনা চিন্তা বাদ দিয়ে করেই ফেলুন প্রথম প্রোপোজ মনের মানুষটিকে। আর রেজাল্ট জানান নিচের কমেন্টে অথবা সরাসরি জানাতে পারেন আমাকে Md Wahid Anowar.
 
আর এইরকম আরো অনেক চমকপ্রদ সাইকোলজিক্যাল টিপস পেতে আমাদের ফেসবুক পেজটি ফলো করে আমাদের সাথেই থাকুন।
হ্যাপি প্রোপোজিং।