ওড়ো অবাধে হয়ে অবাধ্য
        অর্জিত হোক যা কিছু অসাধ্য...

যারা লিংক-ইন পার্কের ভোকাল মিউজিক লিজেন্ড চেস্টার বেনিংটনের আত্মহত্যার খবরে শকড, তাদের এবার আরো শকড হবার পালা। ইনভেস্টিগেশন টীম বলছে খুন করা হয়ে থাকতে পারে এই বিশ্ব কাঁপনো অল্টারনেটিভ রক শিল্পীকে! “খুন মাঝে মাঝে আত্মহত্যার মত মনে হয়, আমরা বিশ্বাস করি এটা একটা পরিকল্পিত হত্যা। আমাদের বের করতে হবে এর পেছনে কে…” – বলেছে পুলিশ সোর্স।

এত দিন পর্যন্ত মিডিয়ায় প্রচার হয়েছে চেস্টার বেনিংটনের আত্মহত্যার মোটিভ হতে পারে ২টি।

  • প্রথমত, শৈশবে একজন পুরুষ দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে মানসিক হীনষ্মন্যতায় ভোগা।
  • দ্বিতীয়ত, বন্ধু ক্রিস কর্নেল এর আত্মহত্যা সহ্য করতে না পারা।

কিন্তু এখন পুলিশ মনে করছে ঘটনা আরো গভীর। যদি প্রথম কারণে চেস্টার আত্মহত্যার দিকে ধাবিত হত তাহলে আরো অনেক আগেই সেটা হতে পারত। আর ক্রিস কর্ণেলের আত্মহত্যার কেস ফাইলটা পুলিশ বন্ধ করে দিলেও আবার খুলতে বাধ্য হচ্ছে। কারণ ধারণা করা হচ্ছে এটাও একটা মার্ডার হতে পারে।

সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে এত বড় একজন শিল্পী আত্মহত্যা করার দিকে ধাবিত হতে যাচ্ছেন অথচ একটা সুইসাইড নোট বা কোন বার্তা নেই।

তারচেয়ে বড় অবাক করার ব্যাপার চেস্টারকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেয়ার কথা স্বীকার করে টুইট করা হয় চেস্টারের ২য় স্ত্রী ট্যালিন্ডা বেনিংটনের এ্যাকাউন্ট থেকে। সেখানে চেস্টারের ব্যান্ডমেট শিনোডার সাথে  সম্পর্ক স্বীকার করেন ট্যালিন্ডা। কিন্তু সেই টুইটটি করা হয় ট্যালিন্ডার টুইট অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে এবং ১ ঘন্টার মধ্যে সেটি সরিয়ে ফেলা হয়। এ থেকে একটা ব্যাপার স্পষ্ট যে কোন বিশেষ মহল চাচ্ছে চেস্টারের মৃত্যুকে সুইসাইড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে।

“As of today, my life’s purpose is one of love and understanding. The world needs to change and that change comes from within. Hate, pride, vengeance and fear are the plague of the earth. Love, kindness, compassion, empathy and service to others are the cure.”

গত মে মাসে নিজের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে এই টুইটটি করেন চেস্টার বেনিংটন। মাত্র দেড় মাসের মাথায় কেন তিনি আত্মহত্যার মত কাজ করে বসবেন?

এর আগে ক্রিস কর্ণেলের মৃত্যুকেও এখন নতুন করে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। ক্রিস কর্নেল ও চেস্টার বেনিংটন তাদের ফাউন্ডেশনে শিশুদের উপর যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে কাজ করতেন। ক্রিস কর্ণেল মিডিয়া জগতের বড় বড় তারকা যারা শিশুকামীতা বা Podofilia এর সাথে জড়িত এদের একটি বড় নেটওয়ার্ক শণাক্ত করেছিলেন এবং তিনি সবার মুখোশ উন্মোচনের দাঁড় প্রান্তে ছিলেন। এরকম সময়েই মে মাসে তাঁর মৃতদেহ পাওয়া যায়।

তাঁর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে চালানো হলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা রেন্ডি কোডি বলছেন ক্রিস কর্ণেলের মাথা থেতলানো ছিল, যা ফরেনসিক রিপোর্ট থেকে গায়েব!!!

অর্থাৎ, হত্যাকারী চক্রের হাত মিডিয়া, পুলিশ, তদন্ত দল সবখানেই থাকতে পারে।

নিজে শিশুকামিতার ভুক্তভোগী হওয়ায় চেস্টার তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু কর্ণেলের সাথে শিশুকামিতার বিরুদ্ধে কাজ করছিলেন। সম্ভবত, অনেক কিছু জেনে গিয়েছিলেন মিডিয়া জগতের শিশুকামী তারকাদের ব্যাপারে। তাই কর্ণেলের মত তাঁকেও প্রাণ দিতে হলো। এমনটাই ভাবছে পুলিশ।

জন লেনন, টুপাক শাকুর এর পর সম্ভবত এটাই সবচেয়ে বড় লিজেন্ড কিলিং হবে ‘চেস্টার বেনিংটনের’ হত্যা, যদি সত্যিই তিনি খুন হয়ে থাকেন।

উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই , বন্ধু ক্রিস কর্ণেলের ৫৩ তম জন্মদিনে লস এন্জেলসের বাড়িতে মিউজিক আইকন,  বিশ্ববিখ্যাত ব্যান্ড লিংকিন পার্কের ভোকাল চেস্টার বেনিংটনের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪১ বছর।

 

সারাবিশ্বে তাঁর অসংখ্য ভক্ত এই ঘটনায় শোকাহত হয়েছেন।