ওড়ো অবাধে হয়ে অবাধ্য
        অর্জিত হোক যা কিছু অসাধ্য...
  • ‘তারা যদি একটি ছোট ঔষধের দোকান থেকে একটি ফার্মাসিউটিকাল কোম্পানি স্থাপন করতে পারে তবে কেন আমি তা করতে পারব না?’
  • ১৯৫৬ সালে, স্যামসন তার বাবার কাছ থেকে কারখানা তৈরির জন্য ৫০০০ টাকা ধার নেন।
  • তার এমনও দিন গেছে যখন তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে সাইকেলে চড়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঔষধ দিয়ে এসেছেন।

বাংলাদেশের ঔষধ শিল্পের গর্ব স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। বাংলাদেশের এমন কোন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর যার জীবনে স্কয়ারের ছোঁয়া লাগেনি। স্কয়ার সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা স্যামসন এইচ চৌধুরী নিরলস পরিশ্রম ও সততার সাথে কাজ করে তিল তিল করে গড়ে তুলেছেন আজকের স্কয়ার পরিবার, এখন যার বার্ষিক টার্নওভার ৮০০ মিলিয়ন ডলারের চেয়েও বেশি। বর্তমানে স্কয়ার পরিবারে ৪৫ হাজারেরও বেশি কর্মচারী কাজ করেন।চলুন আজকে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস এর প্রতিষ্ঠাতা স্যামসন এইচ চৌধুরী সম্পর্কে জানি। পুরো লেখাটি পড়তে আপনার সময় লাগবে বড়জোড় ৫ মিনিট। আশা করি ভাল লাগবে।

স্যামসন এইচ চৌধুরী ১৯২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের আরুয়াকান্দিতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ইয়াকুব হোসেন চৌধুরী ছিলেন একজন মেডিকেল অফিসার। চাঁদপুরের একটি মিশন স্কুলে স্যামসন তার স্কুল জীবন শুরু করেন। তার বাবা চাঁদপুর মিশন হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। ১৯৩২ সালে পাবনার আতাইকুলায় জনাব ইয়াকুব হোসেন চৌধুরীকে স্থানান্তর করা হয়। স্যামসন তার পিতার সাথে পাবনায় যান এবং আতাইকুলায় একটি গ্রামের স্কুলে ভর্তি হন। পরে ১৯৩৩ সালে তার পিতা তাকে ময়মনসিংহে উত্তম শিক্ষার জন্য পাঠিয়েছিলেন। স্যামসন চতুর্থ শ্রেণীতে ভিক্টোরিয়া মিশন স্কুলে ভর্তি হন।

ময়মনসিংহে দুই বছর পড়ার পর, স্যামসন ১৯৩৫ সালে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসেন এবং কলকাতার প্রায় ১৫ মাইল দূরে বিষ্ণুপুরের শিক্ষা সংঘ উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। কিন্তু তাকে সে স্কুলটি ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর সময় কারণ তার পরিবার মনে করেছিল যে যুদ্ধের সময় বাড়ি থেকে দূরে থাকা অনিরাপদ ছিল। বাবা-মায়ের প্রতি সাড়া দিয়ে স্যামসন ১৯৪২ সালে নিজ গ্রামে ফিরে আসেন। পাবনার আতাইকুলা হাইস্কুলে তিনি নতুন একাডেমিক জীবন শুরু করেন। স্যামসন ১৯৪৩ সালে এই স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং সফলভাবে পাস করেন।

১৭ বছর বয়সে স্যামসন তার পরিবারকে না জানিয়ে কয়েকজন বন্ধু সহ কলকাতায় চলে যান। তিনি প্রথমে কলকাতায় তাঁর চাচার বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে, তিনি তার বন্ধুদের সাথে মুম্বাই যান। স্যামসন বন্দর নগরীর বিভিন্ন স্থানে চাকরি খোঁজেন এবং অবশেষে তিনি নৌবাহিনী নিয়োগ বিভাগের একটি সাক্ষাত্কারের সম্মুখীন হয়ে নির্বাচিত হন। 

স্যামসন সর্বদা নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য উন্মুখ হয়ে থাকতেন। নৌবাহিনীর নিয়োগের পর, তিনি সিগন্যালিং সেকশনে নিযুক্ত হন। কিন্তু স্যামসন যোগ দিতে প্রত্যাখ্যান করেন, পরিবর্তে তিনি একটি রাডার অপারেটর পদে তাকে নিয়োগ দিতে বলেন। তিনি রাডার সম্পর্কে জানতে আগ্রহী ছিলেন — কিভাবে এটি প্রতিপক্ষের জাহাজ ও প্লেনের ট্রেস করার কাজ করে। রাডার সেই সময়ে একটি নতুন আবিষ্কার ছিল এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গোপনে ব্যবহৃত হচ্ছিল। সিগন্যালিং সেকশনে যোগ দিতে প্রত্যাখান করায় তাকে জেল এ পাঠানো হয়েছিল।স্যামসন জেলে চার দিন কাটাল। প্রতিদিন সকালে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আসতেন এবং তাকে জিজ্ঞেস করতেন যে তিনি কি তার মন পরিবর্তন করেছেন কিনা। কিন্তু স্যামসন তার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। অবশেষে, পঞ্চম দিনে, অফিসার তাঁর ইচ্ছানুসারে রাডার ইউনিটে স্যামসনের নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন।প্রায় তিন বছর স্যামসন নৌবাহিনীতে চাকরি করেন। দেশে ফেরার পর স্যামসন ১৯৪৭ সালে পাবনা ডাক বিভাগে যোগ দেন। ১৯৫২ সালে স্যামসন চাকরি ছাড়েন এবং বাড়িতে ফিরে যান।

 

স্যামসন তার পিতার পরামর্শে ‘হোসেন ফার্মেসি’ নামের একটি ঔষধের দোকান চালানো শুরু করেন, যা তার বাবার মালিকানাধীন ছিল। স্যামসনের বাবা ঔই অঞ্চলের একটি জনপ্রিয় মেডিকেল অফিসার ছিলেন। যখন মিশন দাতব্য চিকিৎসালয় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তখন ইয়াকুব হোসেন চৌধুরী ‘হোসেন ফার্মেসি’ নামের একটি ঔষধের দোকান খুললেন। তার বাবার খ্যাতির জন্য, দূরবর্তী এলাকার রোগীরাও তার সাথে যোগাযোগ করতেন এবং তার দোকান থেকেই ঔষধ কিনতেন। যখন স্যামসন ফার্মেসির দায়িত্ব নিলেন , সেটি ইতিমধ্যেই ভাল ব্যবসা করছিল। ইয়াকুব হোসেন চৌধুরী্র কৃষি জমিসহ অনেক সম্পত্তি ছিল। সমস্ত উপার্জন মিলে, তাদের আর্থিক অবস্থা ভালই ছিল। কিন্তু উচ্চাভিলাষী স্যামসন তাও সন্তুষ্ট ছিলেন না। তিনি নতুন সুযোগ খুঁজতে শুরু করলেন। তিনি অবশেষে একটি ঔষধ কারখানা স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিলেন।

১৯৫৬ সালে, স্যামসন তার বাবার কাছ থেকে কারখানা তৈরির জন্য ৫০০০ টাকা ধার নেন। তিনি কোম্পানীর নাম রাখেন ‘ইসোনস’ (Esons, Eakub Hossain & Sons), যার অর্থ ইয়াকুব হোসেন ও পুত্ররা। তারপর তিনি সিরাপ উৎপাদন করা শুরু করলেন। স্যামসন নিজের বাড়িতে এই সিরাপ তৈরি করতেন। তিনি ছিলেন তার নতুন কোম্পানির মালিক, কর্মী, পরিবেশক এবং বিপণন কর্মকর্তা। তার কারখানায় একমাত্র সহকারী ছিলেন তার স্ত্রী অনিতা। তার এমনও দিন গেছে যখন তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে সাইকেলে চড়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঔষধ দিয়ে এসেছেন।

সেই সময়ে পাবনাতে একজন হিন্দু ফার্মাসিস্ট ছিলেন যিনি ম্যালেরিয়া বিরোধী একটি মাদকদ্রব্য তৈরি করতেন। ১৯৪৭ সালে তিনি ভারতে চলে যান তার একটি ফার্মেসি বিক্রি করে দিয়ে। পরে এডরুক (Edruk) নামের একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন সে ফার্মেসির মালিক। এটি উৎসাহী স্যামসনের আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দিল এবং তিনি চিন্তা করলেন ‘তারা যদি একটি ছোট ঔষধের দোকান থেকে একটি ফার্মাসিউটিকাল কোম্পানি স্থাপন করতে পারে তবে কেন আমি তা করতে পারব না?’

ডক্টর কাজী হারুনুর রশীদ নামের একজন ভালো বন্ধু ছিল স্যামসনের। স্যামসনের অনুরোধে, তিনি পাবনা শহরে সপ্তাহে দুবার আসতেন তাঁর ঔষধের দোকানে বসার জন্য- রবিবার এবং বুধবার, যা ছিল ‘হাট-বার’ (সাপ্তাহিক বাজারের দিন) আতাইকুলায়। স্যামসন, ডক্টর রশিদের সাথে তার উদ্যোগের কথা শেয়ার করলেন এবং তার নতুন উদ্যোগে অংশীদার হওয়ার জন্য অনুরোধ করলেন। ডক্টর রশিদ আনন্দিত হয়ে একমত হন। স্যামসন তার দুই বন্ধু ডক্টর পি.কে. সাহা ও রাধা বিনোদ রায়ের সাথেও যোগাযোগ করলেন। অবশেষে তারা একটি ফার্মাসিউটিকাল কোম্পানি নির্মাণের জন্য একটি অংশীদারিত্ব পরিকল্পনা তৈরি করলেন। স্যামসন কোম্পানির নাম ‘স্কয়ার’ নামকরণ করলেন। তার এ নামের দার্শনিক তাৎপর্য রয়েছে। তার ভাষায়, “আমরা এটি নামকরণ করেছি স্কয়ার, কারণ আমরা চার বন্ধু, কোম্পানি তৈরি করছি এবং একটি বর্গক্ষেত্রের চারটি বাহু থাকে। এই নামের আরেকটা তাৎপর্য হচ্ছে চার বাহুকে সমান হতে হবে একটি বর্গক্ষেত্র তৈরি করতে হলে যা নিখুঁত এবং সঠিকতার প্রতীক।

১৯৫৮ সালে স্কয়ারের যাত্রা শুরু হয় মাত্র ১৭ হাজার টাকা দিয়ে। স্যামসন ‘Esons’ এর জন্য ৫০০০ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। পরে তিনি আরও দুই হাজার টাকা যোগ করলেন এবং তিনজন বন্ধু দুই-তিন হাজার টাকা করে দিয়েছিলেন, মোট পুঁজি ১৭ হাজার টাকায় দাড়িয়েছিল। স্যামসন পাবনা শহরে একটি ছোট টিনের ছাউনি ভাড়া করে একটি কারখানায় রূপান্তরিত করেন। তিনি ১২ জন কর্মী নিয়োগ করেন। তাদের তৈরি প্রথম ঔষধ ছিল রক্ত ​​সংশোধক ‘ইস্টন সিরাপ’ (Easton Syrup)। প্রথম তিন বছরে স্কয়ার কোন লাভ করতে পারেনি। ফলস্বরূপ, চারজন সহযোগীকে আরো অর্থ বিনিয়োগ করতে হল এবং তৃতীয় বছরে মোট বিনিয়োগ ৮০ হাজার টাকায় উন্নীত হয়। চতুর্থ বছরে, স্কয়ার কিছু লাভ করতে পেরেছিল, এবং তখন থেকেই তাদের সুবর্ণ সময়ের শুরু হয় এবং তাদের আর পিছে ফিরে  তাকাতে হয়নি।

 

১৯৬২ সালে ঢাকার হাটখোলায় কোম্পানির একটি শাখা অফিস খোলা হয়। ১৯৬৪ সালে এটি একটি বেসরকারী লিমিটেড কোম্পানি রূপে রূপায়িত হয়েছিল যার অনুমোদিত মূলধন চিল ৫০০,০০০ টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৪০০,০০০ টাকা। স্কয়ারের যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ছিল ১৯৭৪ সালে যখন কোম্পানিটি জানসেন ফার্মাসিউটিকা (Janssen Pharmaceutica), বেলজিয়াম, যেটি জনসন এন্ড জনসন ইন্টারন্যাশনাল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি অংগ প্রতিষ্ঠান থেকে লাইসেন্স পায়। জানসেন ফার্মাসিউটিকার সঙ্গে চুক্তির ফলে স্কয়ার তাদের কারখানার আধুনিকায়ন এবং উৎপাদিত ওষুধ আন্তর্জাতিক মান করার উদ্যাগ গ্রহণের জন্য অনুপ্রাণিত হয়। এই চুক্তির অধীনে, স্কয়ার ক্রিমি বিরোধী মেডিসিন তৈরি করে ওয়্যারমক্স (Virmox) ও ইমোডিয়াম (Imodium), ডায়রিয়া রোগীদের জন্য একটি ওষুধ। ১৯৮২ সালে নতুন ড্রাগ নীতি স্কয়ারের জন্য প্রকৃত আশীর্বাদ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। ১৯৮২ সালের ড্রাগ পলিসি স্থানীয় ফার্মাসিউটিকাল কোম্পানীর প্রসার লাভের সুযোগ প্রদানের জন্য একটি পরিকল্পনা হিসাবে বহুজাতিক সংস্থাগুলি দ্বারা ১৭০০ টি ঔষধ উৎপাদন নিষিদ্ধ করেছিল। স্কয়ার এই পরিকল্পনার পূর্ণ সুবিধা গ্রহণ করে এবং তিন বছরের মধ্যে এটি ১৯৮৫ সালে জাতীয় এবং বহুজাতিক সংস্থাগুলির মধ্যে বাজারের পথিকৃৎ হয়ে ওঠে। স্কয়ার সফলভাবে তখন থেকে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। ১৯৮৭ সালে, স্কয়ার বিদেশে পণ্য রপ্তানি করা প্রথম বাংলাদেশী ফার্মাসিউটিকাল কোম্পানী হিসেবে নাম লেখায়।

 

১৯৯১ সালে, যখন স্কয়ার একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হয়ে উঠেছিল, তখন জনগণ প্রাথমিকভাবে প্রস্তাবিত শেয়ারের জন্য ৯০০ টাকা দিয়েছিল যার ‘ফেস ভ্যালিউ’ ছিল ১০০ টাকা এবং তারা এই শেয়ার নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিল। ১৯৯৫ সালে কোম্পানি ফার্মাসিউটিক্যালস উৎপাদন শুরু করে বাল্কে (Bulk) এবং এভাবে কোম্পানীটি নতুন একটি উচ্চতায় পৌঁছেছিল। ১৯৯৭ সালে স্কয়ার বাংলাদেশের রপ্তানির ক্ষেত্রে তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় রপ্তানি ট্রফি লাভ করে। ১৯৯৮ সালে স্কয়ার ISO 9001 সার্টিফিকেশান পায়। ২০১০ সালে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসকে ‘বেস্ট এন্টারপ্রাইজ’ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে ডেইলি স্টার এবং ডিএইচএল ওয়ার্ল্ডওয়াইড এক্সপ্রেস।

১৯৮৮ সালে, স্কয়ার টয়লেট্রিজ, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস এর একটি পৃথক বিভাগ হিসাবে অপারেশন শুরু করে। ১৯৯৪ সালে স্কয়ার টেক্সটাইলস লিমিটেড তার যাত্রা শুরু করে এবং এক বছর পর দ্বিতীয় টেক্সটাইল ইউনিট স্থাপন করা হয়। স্কয়ার টেক্সটাইল ২০০২ সালে রাজধানীর শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ১৯৯৮ সালে, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস এর কৃষি রাসায়নিক ও ভেটেরিনারি পণ্য বিভাগ অপারেশন শুরু করে। স্কয়ার স্পিনিং লিমিটেড ২০০০ সালে যাত্রা শুরু করে আর স্কয়ার নিট ফ্যাব্রিকস লিমিটেড ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। একই বছরে স্কয়ার ফ্যাশনস লিমিটেড এবং স্কয়ার কনজ্যুমারস প্রোডাক্টস লিমিটেড তাদের কার্যক্রম শুরু করে। পরে স্কয়ার ইনফরম্যাটিক্স এবং স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডও প্রতিষ্ঠিত হয়।

 

স্যামসন এইচ চৌধুরী ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের কাছে একজন সুখ্যাত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন এবং তিনি অনেক পুরস্কারও পেয়েছেন। স্যামসন এইচ চৌধুরী ১৯৯৬-১৯৯৭ মেয়াদে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি ছিলেন। বাংলাদেশ হারবাল প্রোডাক্ট ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশনেরও সভাপতি ছিলেন তিনি। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও ছিলেন। ২০০৯-১০ অর্থ বছরে সেরা করদাতা নির্বাচিত হয়েছেন স্কয়ারের উদ্যোক্তা স্যামসন এইচ চৌধুরী। ২০০৯-১০ অর্থবছরে ব্যক্তি করদাতা হিসেবে আয়কর দিয়েছেন এক কোটি ৬৩ লাখ ২২ হাজার ১৮১ টাকা। এজন্য সরকার তাকে ২০০৯-২০১০ এর জন্য সি.আই.পির (C.I.P) সম্মানা দিয়েছে ( বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি)।

স্যামসন এইচ চৌধুরী সিঙ্গাপুরের র‍্যাফেলস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়  ৫ জানুয়ারি ২০১২ তে ৮৬ বছর বয়সে মারা যান। ৭ জানুয়ারি ২০১২ সালে দুপুর ২ টায় স্যামসন এইচ চৌধুরীকে পাবনাতে তার এস্ট্রা ফার্মহাউসে চিরদিনের জন্য শায়িত করা হয়েছে।

স্যামসন এইচ চৌধুরীর জীবন থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। পরিশ্রম ও সততার সাথে কাজ করলে জীবনে অনেক মহৎ কিছু করা সম্ভব তা আমাদেরকে স্বচক্ষে দেখিয়েছেন তিনি। তিনি আজ এই পৃথিবীতে নেই কিন্তু তার কীর্তির কারণেই আমরা তাকে স্মরণ করি।

অনুপ্রেরণামূলক এরকম আরও লেখা পড়তে চাইলে ফলো করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। অবাধের সাথেই থাকুন :)।