ওড়ো অবাধে হয়ে অবাধ্য
        অর্জিত হোক যা কিছু অসাধ্য...

আজাদ প্রোডাক্টস-এর স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম আজাদ শুরু করেছিলেন শূন্য থেকে। গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি থাকলেও ফুটপাতে দাঁড়িয়ে পোস্টার বিক্রি করতে দ্বিধা করেননি। সততা, বুদ্ধি আর পরিশ্রম তাঁকে আজকের অবস্থান নিয়ে এসেছে। তাঁর মুখেই শুনুন সেই গৌরবোজ্জল সংগ্রামের কাহিনী :

 

পুরো ব্যাপারটাই স্রেফ দুঃস্বপ্ন মনে হয় আমার কাছে। তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছি- ডুবে যাচ্ছে নৌকাটা, একটু একটু করে ডুবে যাচ্ছে পানির নিচে এবং এক সময় সেটা পুরোপুরি তলিয়ে গেল। কেবল নৌকায় রাখা নারকেলগুলো ভাসছে ঢেউয়ে মৃদু দুলছে, কিন্তু ঠিক ডুবে যাচ্ছে না, ডুবে ডুবে ভাসছে।

মা মারা গেছেন বেশ আগে, বাবা ছিলেন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। আমার কথা শুনে স্বভাবজাত মাপা হাসিতে তিনি বললেন, কী ব্যবসা করবে তুমি?কোন জবাব দেইনি সে মুহূর্তে। সদ্য ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিয়ে আমি কেবল চেয়েছিলাম, রেজাল্ট বের হওয়ার আগের তিনটা মাস ব্যবসা করতে যে কোনো একটা ব্যবসা। যদিও বাবা চেয়েছিলেন আমি যেন তাঁর মতো শিক্ষক হই। কিন্তু আমার ঝোঁক ছিল ব্যবসার দিকে।

খালাতো ভাই হাসানের ছিল ২০ টাকা আর আমার নিজের ছিল ১০ টাকা, মোট ৩০ টাকা। তাই দিয়েই শুরু হলো নারকেলের ব্যবসা। হাট থেকে নারকেল কিনে নৌকায় করে এনে বিক্রি, মূলধন ৩০ টাকা। তারপর একদিন ডুবে গেল নৌকাটা, ভেসে গেল নারকেল! হাসানের বাবা খালুজান রেগে গেলেন আর আমার বাবা বেশ স্পষ্ট করে বললেন, তোমাকে দিয়ে ব্যবসা হবে না!

যাহোক, নৌকাটা তুলে আনা হয়েছিল। ভেসে যাওয়া কিছু নারকেলও কুড়ানো গেল এবং শেষমেশ তিন মাসের ব্যবসায় মোট লাভ হলো ২৫ টাকা। মূলধন দাঁড়ালো ৩০ + ২৫ = ৫৫ টাকা।

ম্যাট্রিক-এর রেজাল্ট হওয়ার পর বাবার সেই একই কথা তুমি পি.টি.আই পড়ো এবং শিক্ষক হও। নিতান্তই সরল ছিল বাবার এই চাওয়াটা। কিন্তু আমার ইচ্ছা ছিল আরো লেখাপড়া করবো। মামাকে মনের ইচ্ছের কথা খুলে বলতেই কলেজে ভর্তি করিয়ে দিলেন। সেখান থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করলাম।

কথাটা বাবা আবার বললেন, এবার অন্তত পি.টি.আই পড়ো। আমি বুঝে গেলাম- আর রক্ষা নেই, পি.টি.আই আমাকে পড়তেই হবে। ওদিকে মামা বললেন, আমার তো তেমন টাকা-পয়সা নেই, তোমাকে আর পড়াতে পারবো না। জটিল সমস্যায় পড়ে গেলাম আমি। সিদ্ধান্ত নিলাম, বাড়ি ছেড়ে পালাবো!হুজুর গোছের একজন মানুষ ছিলেন গ্রামে। তিনি ঢাকায় থাকেন, একটা মসজিদে ইমামতি করেন। তিনি গ্রামে এলে একদিন সুযোগ বুঝে হুজুরকে বললাম, আপনি আমাকে ঢাকায় নিয়ে যাবেন?

হুজুর বললেন, তোমার বাবা বললে নেব। কিন্তু বাবা হুজুরকে স্পষ্ট বলে দিলেন, কোনোক্রমেই আমাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া চলবে না। আমি অপেক্ষা করতে লাগলাম, হুজুর কবে ঢাকায় যান। গোপনে হুজুরের স্ত্রীর কাছে দিনক্ষণ শুনে নিয়ে নির্ধারিত লঞ্চে উঠে বসে থাকলাম। লঞ্চটা মাঝ নদীতে আসার পর হুজুরের সামনে গিয়ে বললাম, আমি কিন্তু আপনার সঙ্গে ঢাকায় যাচ্ছি!

আমার অদম্য আগ্রহের কাছে হুজুর হার মানলেন। সঙ্গে করে ঢাকায় এনে ডেমরার মাতুয়াইলে নিন্ম মধ্যবিত্ত রফিক সাহেবের সংসারে লজিং-এর ব্যবস্থা করে দিলেন। বিনিময়ে বাড়ির ছেলেমেয়েদের পড়াতে হবে। একইসঙ্গে পাড়ায় আরো দুটো টিউশনি শুরু করলাম। আর নিজে ভর্তি হলাম শেখ বোরহানউদ্দিন কলেজের ডিগ্রি ক্লাসে। কিন্তু দুশ্চিন্তার শেষ নেই। বাড়ি থেকে কোনো টাকা-পয়সা পাওয়া যাবে না।

কিছুদিন পর আশ্রয়দাতা রফিক সাহেব কাতর মুখে বললেন, আমার তো সামান্য চাকরি, আপনাকে আর রাখতে পারছি না। তবে আপনার জন্য আরেকটা ভালো লজিং ঠিক করেছি। সম্পর্কে আমার বোন হন, তার দুই মেয়ে এক ছেলে- তাদের পড়াবেন।

দিন কাটতে লাগলো। বি.এ পাস করা মাত্র শুরু হলো নতুন চিন্তা। পরিবারের বড় ছেলে হিসেবে চাকরি করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু কে দেবে সেই সোনার হরিণের সন্ধান? দিন যায়, জুতার সুকতলা ক্ষয় হয়, চাকরি জোটে না। এরমধ্যে সিটি ল’ কলেজে ভর্তি হলাম।  আইনে প্রিলিমিনারি কমপ্লিট করলাম। কিন্তু টাকার অভাবে ফাইনাল পরীক্ষাটা আর দেওয়া হলো না। ততদিনে এটাও বুঝে গেছি যে, চাকরির পেছনে ঘুরে লাভ নেই। আত্মকর্মসংস্থানের চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু কী করবো? থাকি মুহসীন হলে এক বন্ধুর আশ্রয়ে। টিউশনি করে চলি আর সারাদিন পথে পথে ঘুরি সদরঘাট, নিউমার্কেট, বায়তুল মোকাররম, গুলিস্তান, মতিঝিল। উদ্দেশ্য কে কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করছে, তা অবলোকন করা।

কাংখিত মডেলের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল সংসদ ভবনের ডান পাশে। স্কেল বিক্রি করছে প্লাস্টিকের স্কেলকে একদিক করলে মোহাম্মদ আলী ঘুষি দেয়, ওদিক করলে কাবা শরীফ ভেসে ওঠে!

আমার মনে হলো, এ রকম একটা ব্যবসা তো আমিও করতে পারি। স্কেলের গায়ে লেখা আছে ‘মেড ইন চায়না’. বাংলাদেশে এ স্কেলটা কোথায় পাওয়া যায়? স্কেল বিক্রি করলে কত আয় হয়? এমন আরো অনেক প্রশ্ন জেগে উঠল মনে। কাছে এগিয়ে গিয়ে জানতে চাইলাম, ভাই আপনি এই স্কেল বিক্রি ছাড়া আর কিছু করেন? বিক্রেতা জবাব দিলো, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। সঙ্গে সঙ্গে স্কেল ব্যবসার চিন্তা মন থেকে বাদ দিয়ে দিলাম। কারণ আমার মনে হলো, এ ব্যবসাটা একজন করে যার গ্রামে দু’জন ভাইবোন আছে, যাদের লেখাপড়ার খরচ এখান থেকে চলে।

সুতরাং আরেকজনের ব্যবসায় ভাগ না বসিয়ে অন্য কিছু খুঁজে নিতে হবে। ঘুরতে ঘুরতে একদিন চলে এলাম স্টেডিয়ামের কাছে। হঠাৎ চোখে পড়ে গেল একটি লোক স্টেডিয়ামের লোহার গেটের সঙ্গে লম্বা করে দড়ি টানিয়ে বিভিন্ন পোস্টার বিক্রি করছে। পোস্টারে ফুটে আছে সে সময়ের জনপ্রিয় মুখ এলভিস প্রিসলি, অলিভায়া নিউটন, জন বনিয়েম, জন ট্রাভোলটা, কাবা শরিফ, মদিনা শরিফ ইত্যাদি। 

দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পোস্টারগুলো দেখছিলাম। হঠাৎ পোস্টার বিক্রেতার এক বন্ধু এসে বললো, বহুত তো কামাইতেছিস, চা খিলা। কানে ‘বহুত কামানো’ ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই কান দুটো আরো খাড়া করে ফেললাম।

মুহূর্তেই সিদ্ধান্ত নিলাম, এই ব্যবসাটাই করবো আমি। কিন্তু এ পোস্টারগুলো কোথায় কিনতে পাওয়া যায়? উত্তর জানার আশায় পুরো দু’দিন পোস্টার বিক্রেতার কাছাকাছি থাকলাম। তৃতীয় দিন জিজ্ঞেস করলাম, পোস্টারগুলো কোত্থেকে আনেন?পোস্টার বিক্রেতা চমকে উঠে বললো, কেন এ ব্যবসাটা করবে নাকি? না বলা যাবে না। জিদটা চেপে গেল তখনই। যে কোনো উপায়েই হোক, পোস্টার কোথায় পাওয়া যায়, তা বের করতে হবে।

পোস্টার বিক্রেতাকে অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নিলাম। সারাদিনের বিক্রি শেষে যখন বাড়ি ফিরছিল, আমিও দূর থেকে তাকে অনুসরণ করে মিরপুর পর্যন্ত গেলাম; প্রথম জীবনে ঢাকায় আসা হুজুরকে অনুসরণ করার মতো। মিরপুরে যে জায়গায় পোস্টার বিক্রেতা নামলো, পরদিন খুব সকালে ওই জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম আমি; লোকটা এখানে এসে বাসে উঠবে।

বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর লোকটি এসে বাসে উঠল, আমিও চুপিচুপি পিছু নিলাম। বাস এগিয়ে চলছে গুলিস্তান, ঠাটারীবাজার, নবাবপুর রোড হয়ে সদরঘাট। লোকটি সদরঘাটের আগেই কোর্ট-কাচারির সামনে নামলো এবং সোজা ঢুকে গেল একটি দোকানে। লোকটির পিছু পিছু আমিও এগুলাম। দোকানের কাছাকাছি এসে বুঝতে পারলাম, পোস্টারগুলো কোথা থেকে কেনে লোকটি। আবিষ্কারের আনন্দে বুকটা কাঁপছে তখন!

পোস্টার কিনে লোকটি চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর আমি ওই দোকানে ঢুকলাম। কিছুক্ষণ ইতি-উতি তাকিয়ে দোকানদারকে বললাম: আপনারা কি সবার কাছেই পোস্টার বিক্রি করেন? দোকানদার হ্যাঁ বলতেই সোজা বাসায় চলে এলাম। পুরানো বই-খাতা সব বিক্রি করে দাঁড়ালো ৪৫০ টাকা। পরের দিন পোস্টার কিনতে গেলে দোকানদার ৫০ টাকার বেশি পোস্টার দিল।

পোস্টারগুলো নিয়ে সোজা চলে এলাম স্টেডিয়ামের কাছে। মোহামেডান ক্লাবের পাশে একটি জায়গায় দড়ি বেঁধে পোস্টারগুলো সাজালাম। ঠিক করলাম, একটু কম দামে অথচ পরিমাণে বেশি পোস্টার বিক্রি করবো।

এর মধ্যে ওই পোস্টার বিক্রেতা জেনে গেছে, নতুন একটা দোকান হয়েছে। সেটা দেখতে এসে বিক্রেতার চোখ ছানাবড়া এজন্যই এতদিন আমার কাছে ঘুরঘুর করেছ তুমি? আমার ব্যবসায় ভাগ বসাইল্যা! প্রচ- রাগে গজগজ করতে করতে বিক্রেতা যেন নীরবে শাসিয়ে গেল। কিছুক্ষণ পর কয়েকজন পুলিশ এসে আমার দোকানটা তছনছ করে ফেলল। দড়ি ছিঁড়ে ফেলল, পোস্টার ফেলে দিল। এখানে নাকি দোকান করা যাবে না। কেন দোকান করা যাবে না- প্রশ্নটা করতেই এক পুলিশ বললো, ওই বিক্রেতার সঙ্গে চুক্তি আছে আমাদের!

কিছুটা দমে গেলাম আমি, পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিলাম। না, নিরাশ হওয়া যাবে না। নতুন একটা বুদ্ধি বের করলাম। একটা ছেলে যোগাড় করলাম, যে একটা লাঠির সঙ্গে পোস্টার টাঙিয়ে সারা শহরময় ঘুরবে। শুরু হলো নতুন সাধনা। ছেলেটা লাঠির সঙ্গে পোস্টার বেঁধে হাঁটে আর আমি পেছন পেছন গুছানো পোস্টার নিয়ে হাঁটি। এ এক অদ্ভুত নেশাÑ ব্যবসা করার নেশা!

হাঁটতে হাঁটতে একটা জায়গা ঠিক করে ফেললাম, যেখানে দাঁড়িয়ে নির্দিষ্টভাবে পোস্টার বিক্রি করা যাবে। জায়গাটা বায়তুল মোকাররমের কে. এল. জুয়েলার্সের সামনে। মাঝে মধ্যে বিভিন্ন মেলাতেও যেতাম। ভিতরে ঢুকতে না দিলে গেটে দাঁড়িয়ে বিক্রি করতাম। প্রচ- শারীরিক পরিশ্রম হতো। তবু হাল ছাড়িনি, দিন শেষে বিক্রির টাকা হাতে এলে সব কষ্ট ভুলে যেতাম। সৎভাবে বেঁচে থাকার জন্য কিছু একটা করছি- এ সান্ত¡নায় বুক বাঁধতাম।দিন দিন পোস্টার বিক্রি বাড়তে লাগলো। ক্রমে পরিচিতি পেলাম, লোকবল বাড়লো; বেড়ে চললো মূলধনও। খোঁজ নিয়ে জানলাম, পোস্টারগুলো আসে ব্যাংকক থেকে। সঙ্গে সঙ্গে ছোট একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ি- আহা আমি যদি ব্যাংকক যেতে পারতাম, সেখান থেকে পোস্টার আনতে পারতাম, তবে আরো বেশি লাভ হতো!১৯৭৬-৭৭ সালের কথা। বিটিভিতে প্রচারিত সিক্স মিলিয়ন ডলারম্যান সিরিজের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। হু হু করে বিক্রি হয়ে যেত সিরিজের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ভিউকার্ড আর পোস্টার।

আমার দৃষ্টির দূয়ার খুলে গেল। বিদেশি অভিনেতা-অভিনেত্রীদের জনপ্রিয়তা থাকলে দেশীয় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পোস্টার, ডিউকার্ডও বিক্রি হবে নিশ্চয়। বিটিভির জনপ্রিয় সাপ্তাহিক সকাল-সন্ধ্যা তখন আলোচনার শীর্ষবিন্দুতে। পীযুষ-আফরোজা জুটিও জনপ্রিয়। কিন্তু কই পাই তাঁদের ছবি? কীভাবে পাওয়া সম্ভবÑ সে ব্যাপারে আমার কোনো ধারণাই ছিল না।

একদিন ফুটপাতে ‘তারকালোক’ পত্রিকার প্রচ্ছদে পীষুষ-আফরোজার ছবি দেখে নতুন পরিকল্পনা এলো মাথায়। পত্রিকা থেকে ঠিকানা নিয়ে ছুটে গেলাম নীলক্ষেতে ‘তারকালোক’ অফিসে। সম্পাদক আরেফিন বাদল ভাইকে আমার পরিকল্পনার কথা বুঝিয়ে বলতেই পীযুষ-আফরোজা, আফজাল-সুর্বণা ও রাজ্জাক পরিবারের ছবি দিলেন।

আমি যেন ‘আলাউদ্দিনের চেরাগ’ হাতে পেলাম! ততদিনে আমার কিছু পুঁজি হয়েছে। হাজার পঁচিশেক টাকার মালিক আমি। সেই টাকায় ভর করে ব্যাংকক যাত্রা করলাম। ব্যাংককে পৌঁছে পোস্টার বিক্রির জায়গাটা খুঁজে বের করলাম এবং ভীষণ চমকেও উঠলাম। ঢাকায় যে পোস্টার ১২ টাকা দিয়ে কিনতাম, সেটা  এখানে মাত্র দুই টাকা। সবমিলিয়ে ঢাকায় আনতে পোস্টার প্রতি খরচ সাড়ে চার টাকা।

শুরু হলো ব্যাংকক থেকে পোস্টার এনে বিক্রি করা। এদিকে সকাল-সন্ধ্যা’র জনপ্রিয় জুটি আফরোজা বানু ও পীযুষ বন্দোপাধ্যায়ের ছবি, নায়ক রাজ্জাক-এর পরিবার এবং আফজাল-সুবর্ণার ছবি ব্যাঙ্কক থেকে প্রসেস করে এনে পোস্টার ও ভিউকার্ড হিসেবে ছাপালাম।

প্রথম দিকে বাধাও এলো। কয়েকটি পত্রিকায় রিপোর্ট হলো- আজাদ নামে এক ছেলে পোস্টার-ভিউকার্ড ছাপানোর নামে দেশে অপসংস্কৃতি আমদানি করছে! কিন্তু ব্যাপারটা শাপেবর হয়ে দাঁড়ালো- হু হু করে বিক্রি হতে লাগলো পোস্টার আর ভিউকার্ড। এক সময় এমনভাবে চলতে লাগলো যে, চাহিদামতো ছাপাতে হিমশিম খাচ্ছিলাম। তারপর ১৯৮২ সালে এসে প্রতিষ্ঠিত হয় আজাদ প্রোডাক্টস।

আমার পুঁজি ছিল অল্প, কিন্তু সততা, নিষ্ঠা, শ্রম আর বুদ্ধির সংযোগ আমাকে এতদূর এনেছে। আমি সবসময় পাওনা শোধ করতাম চাওয়ার আগেই নির্দ্দিষ্ট সময়ের মধ্যে। তাতে করে যে আস্থা অর্জন করেছিলাম, তা পরবর্তীতে বহুভাবে উপকারে এসেছে। আরেকটা কথা পণ্যের মান রক্ষায় আমি বরাবরই আপোসহীন।

আমি মনে করি, সবার সব ধরনের কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে। কোনো কাজই ছোট নয়, অবহেলার নয় এই চিন্তা একদিন আপনাকেও পৌঁছে দিতে পারে সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে।