ওড়ো অবাধে হয়ে অবাধ্য
        অর্জিত হোক যা কিছু অসাধ্য...

বাঙ্গালি হয়ে ইলিশ মাছ খেতে পছন্দ করেন না এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে। আর সেটি যদি হয় পদ্মার ইলিশ তাহলে তো কোনো কথাই নেই। আজ আপনাদের এমনি এক জায়গার সাথে পরিচয় করায় দিবো যেখানে আপনি ঘুরে আসার পাশাপাশি খেয়ে আস্তে পারেন পদ্মার ইলিশ। রথ দেখা আর কলা বেচা আরকি। :p

জায়গাটার নাম হল ‘মাওয়া ঘাট’। আমি জানি অনেকেই হয়তো এখানে গিয়েছেন আগেই। তারপরো আমার পোস্টটি তাদের জন্য যারা আগে কখনো যাননি এবং মাওয়া ঘাট সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। চলুন শুরু করা যাক।

 

যেভাবে যাবেনঃ মাওয়া ঘাট যাওয়ার জন্য প্রথমে আপনাকে চলে যেতে হবে গুলিস্তানে। গুলিস্তান এর গোলাপ শাহ্‌ মাজার পার হলেই BRTC কাউন্টার। ওখান থেকে মাওয়া ঘাটের ভাড়া ৭০ টাকার মতো। তবে সুধু  BRTC  না, আরো  অনেক বাস রয়েছে যারা মাওয়া ঘাটে যায়। ভাড়া মোটামুটি এমনি। তাছাড়া পার্সোনাল গাড়ি থাকলে তো কথাই নাই। খুব সহজেই নিজ বাসা থেকে চলে যেতে পারবেন মাওয়া ঘাটে। যেতে গুলিস্তান থেকে  মোটামুটি  এক ঘণ্টার মতো লাগবে।

মাওয়া ঘাট পৌঁছানোর পর ২নং গেট দিয়ে ঢুকলেই পেয়ে যাবেন অনেক গুলা রেস্তরাঁ। প্রত্যেক দোকানেই পাবেন ইলিশ।দাম ও সব সেম। তারা ইলিশ মাছ গুলো সাজিয়ে রাখে। আপনার খুশি মতো যেকোনোটা পছন্দ করে নিতে পারবেন। তাছাড়া আপনি সিঙ্গেল মাছের পিছও কিনতে পারেন। তবে আমি সাজেস্ট করবো গোটা মাছ কেনার জন্য। কেননা তারা অনেক সময় আসল ইলিশ মাছের বদলে নকল ইলিশ মাছ ধরিয়ে দিতে পারে। যেটিকে স্থানীয় ভাষায় সারডিন বা সুরমা ইলিশ বলে। মাছ যদি কাটা থাকে সেক্ষেত্রে আপনার ধরার কোনো উপায় থাকবে না। আর আপনি যদি গোটা মাছ কেনেন তাহলে বুঝতে পারবেন সেটি আসল বা নকল কিনা।

মাছের সাথে ভাত আর বেগুন ভাজি নিবেন।  আর মাছের যে লেজ আছে সেটা দিয়ে লেজ ভর্তা বানিয়ে নিবেন। একটু বেশি ঝাল দিয়া করে নিবেন। গরম ভাত, ইলিশ মাছ ভাজা আর সাথে ঝাল ঝাল ভর্তা। এ এক অমৃত!

 

দরদামঃ এখন আসি মাছের দামের ব্যাপারটায়। আপনি সেখানে নতুন বা পুরাতন যেই কাস্টোমারই হন না কেনো তারা আপনার গলা কাটার চেষ্টা করবে। কিন্তু সেক্ষেত্রে ভয় পাওয়ার কিছু নাই। আপনাকে দরদাম করে নিতে হবে। মাঝারি আকারের একটি ইলিশের দাম পরবে ৬০০-৭০০ টাকা। বড় আকারের গুলো ৮০০-১০০০। আর সিঙ্গেল মাছের পিছ কিনে খেতে চান তাহলে প্রতি পিছ ৫০-৬০ টাকা।আপনি সিঙ্গেল বা গোটা মাছ যাই কিনুন না কেন  তারা আমার বলা দাম  এর চেয়ে বেশি দাম চাইবে। উপায় একতাই,  ঐ  যে বললাম দরদাম করে নিবেন।আর মাছ কেনার পর নিজে দাঁড়িয়ে কেটে নিয়ে ভেজে নিবেন। তারা অনেক চালাক। আপনার মাছের পিছ যেকোনো সময় চেঞ্জ করে ফেলবে যদি আপনি নিজে দাঁড়িয়ে না খেয়াল করেন।

এরপর  বেগুন ভাজি ১০টাকা এর মতো নিবে। সাদা ভাত ৩০-৩৫ টাকা। চিংড়ি মাছ পাবেন সিঙ্গেল ৮০-৯০টাকা।আর লেজ  ভর্তা টা তারা নিজেরাই বানায় দিবে। তাদেরকে জাস্ট কিছু টাকা টিপস দিলেই হবে।

 

 

পরিবেশঃ দোকান গুলোর অবস্থা সাধারণ রোড সাইড রেস্টুরেন্ট গুলোর মতোই। এইসব জায়গায় হাই ফাই কিছু চিন্তা করাও যায় না। সবচেয়ে বড় বিষয় এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ। তাই রেস্তরাঁ গুলোর পরিবেশ নিয়ে আপনার তেমন মাথা বেথা থাকবে না। আপনি যাবেন সেখানকার যেকোনো একটি রেস্তরাঁ তে ইচ্ছা মতো বসে পরবেন। আর উপভোগ করতে থাকবেন সেখানকার আবহাওয়া ও খাবার গুলো। আর বৃষ্টির দিন গুলোয় গেলে তো কথাই নাই।আপনি সেদিন সোনায় সোহাগা। আপনার ইলিশ খাওয়ার ফিলিংস বেড়ে যাবে কয়েক গুন। বাইরে বৃষ্টি সাথে ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত, সাথে মচমচে ভাজা ইলিশ মাছ। এ এক অসাধারণ অনুভূতি।

 

বোনাসঃ মাওয়া যেয়ে যদি সুধু ইলিশ খেয়ে চলে আসেন তাহলে ১০০% পয়সা উশুল কিন্তু হবে না। সো মাওয়া যাওয়ার পর ঘুরে আসতে পারেন পদ্মা রিসোর্ট থেকে। পদ্মা রিসোর্ট যাওয়ার জন্য আপনি মাওয়া ঘাট থেকে চলে যাবেন লৌহজং থানায়। CNG করে যেতে পারেন, ভাড়া ৩০ টাকা পার হেড। সেখানে যাওয়ার পর আপনি নৌকা পাবেন যেগুলো আপনাকে পদ্মা রিসোর্টে পৌঁছায় দিবে। সেখানকার কটেজ গুলায় থাকতে পারেন রাতটা। অনেক জোস একটি অভিজ্ঞতা হবে বলতে পারি।

 

এই হল মাওয়া ফেরি ঘাটের সম্পূর্ণ বৃত্তান্ত। সো আর দেরি কেনো! সময় করে বন্ধু বা পরিবার নিয়ে ঘুরে আসুন মাওয়া ঘাট থেকে।